নিজস্ব প্রতিবেদক
সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মিয়ানমারকে করিডোর দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যখন দেশ উত্তাল, ঠিক সেসময় ইউনূস সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজ দখল করে নিয়েছে হ্যাকাররা। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল।
এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে ইউনূস সরকারের উদাসীনতা নিয়েও।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ হ্যাকড হয় ৩রা মে, শনিবার রাতে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে
জানানো হয়, হ্যাকড হওয়ার সময় কিছু অনুপযুক্ত ও অনুমোদনবিহীন কন্টেন্ট পেজ থেকে শেয়ার করা হয়, যা সাধারণ অনুসারীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পেজটি বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। পেজের নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের দল ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সাইবার হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, পেজটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এর কোনো পোস্ট, বার্তা বা লিংকে বিশ্বাস না করতে এবং তা শেয়ার না করতে। একইসঙ্গে কেউ যেন হ্যাকড পেজের মাধ্যমে যোগাযোগ না করেন, সে বিষয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
বিকল্প হিসেবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঠিক ও নিশ্চিত তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলের মাধ্যমে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপত্তা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
