লাইফস্টাইল
সারাদিন অভুক্ত থাকার পর শারীরিক সুস্থতায় সঠিক ও স্বাস্থ্যকর ইফতারি জরুরি। ইফতারে সুষম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার শরীরে যথাযথ পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রোজাদারকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই ইফতারে ভাজা-পোড়া খাবারের চেয়ে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে, এমন কিছু খাবার খাওয়া যায়। যেমন:
তরল খাবার
তরল খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করা যায়। তাড়াহুড়া নয়, আস্তে আস্তে তরল গ্রহণ করুন। তরল হিসেবে লাচ্ছি, তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, তোকমার শরবত, আখের গুড়ের শরবত ও লেবু পানি অনেক উপকারি। শরবত বা তরল তৈরিতে তাল মিছরি, গুড়, মধু ও ব্রাউন সুগার ব্যবহার করা যায়।
ছোলা
রোজার পরিচিত খাবার ছোলা। এতে রয়েছে প্রোটিন। তবে দেখা যায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল-মসলায় ভুনা ছোলা খান। এতে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি। ছোলা সারারাত ভিজিয়ে রাখলে ভালো। সিদ্ধ ছোলার সাথে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা, টমেটো মিশিয়ে অথবা সামান্য তেলে ছোলার খাবার তৈরি করে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কাঁচা ছোলা খেলেও অনেক খাদ্য আঁশ ও প্রোটিন পাওয়া যায়।
সবজি
বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার ইফতারে রাখতে পারেন। সবজি স্যান্ডউইচ, সবজি নুডলস, সবজি রোল, সবজি মমো, সবজি পাকোড়া ইত্যাদি। তবে তেল যতটা কমিয়ে ব্যবহার করা যায়, তত ভালো। বয়স্কদের সবজি স্যুপ দিতে পারেন।
ফল
মৌসুমি ফল ইফতারিতে রাখা যায়। মিক্সড ফ্রুটস বা ফল দিয়ে তৈরি ডেজার্ট খাওয়া যেতে পারে। ফলের ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের চাহিদা পূরণ করে, প্রয়োজনীয় খাদ্য আঁশ জোগায়। হজম ভালো হয়। পেটের সমস্যা থাকে না।
মিষ্টি
জিলাপি বা বুন্দিয়া নয়, ইফতারে স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন পরিমাণমত খাওয়া যেতে পারে। জিলাপি বা বুন্দিয়া তেলে ভেজে সিরায় ফেলা হয়, যা বেশি খেলে ক্ষতিকর। তাই দুধের তৈরি মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন- ফালুদা, কার্স্টাড, পুডিং, ফিরনি ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। তবে বিকল্প হিসেবে দইও খাওয়া যায়।
অন্যান্য খাবার
চিড়া-দই ইফতারের জন্য আদর্শ খাবার। এতে কার্ববোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম মেলে। এছাড়া দইবড়া, নুডলস, স্যান্ডউইচ, রুটি-কাবাব, মমো ইত্যাদি ইফতারের মেন্যুতে রাখা যায়। এ ছাড়া শশা থাকলে ভালো।
নামিদামি রেস্তোরাঁর অতিরিক্ত তেল-মসলায় তৈরি মুখরোচক খাবারের চেয়ে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার শরীরের জন্য অধিক ভালো। রমজান সংযমের মাস। বিলাসিতায় মত্ত না হয়ে অভুক্ত সাধারণ মানুষের কথাও আমাদের ভাবা উচিৎ।
