নিজস্ব প্রতিবেদক
রোজা রেখে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন মসজিদের ইমাম।
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বনগাঁও উত্তরপাড়া মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভিক্টিমের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ইমামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
পবিত্র রমজানের মাসে মসজিদ সংলগ্ন ইমামের কক্ষে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলাম (৪০)। তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার বাণীগ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় এলাকার মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ছাতক থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম স্থানীয় ইসলামপুর মাদ্রাসায় পড়ান। পাশাপাশি ইসলামপুর বনগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে ইমামতিও করেন। এবার রমজানে মসজিদে ইত্তেহাদুল কোররার অধীনে কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করছিলেন তিনি। মসজিদের ভেতরেই তার বসবাসের কক্ষ রয়েছে। শনিবার দুপুরে এই কক্ষেই তিনি একই গ্রামের ১৭ বছর বয়সী তার এক ছাত্রীকে ডেকে আনেন রমজানের মাসলা মাসায়েল আর কোরান শিখানোর কথা বলে।
রোজা রেখে ইবাদত করলে ইবাদত কবুল হয় এবং গুরুজনের কথা শুনলে আরো বেশি সওয়াব হয় বলে ছাত্রীকে উপদেশ দেওয়ার এক পর্যায়ে মেয়েটিকে তার কক্ষেই ধর্ষণ করেন ইমাম শফিকুল। বাড়িতে এসে ঘটনাটি বলে দেয় নির্যাতিতা কিশোরী। ঘটনা জানাজানি হলে ধর্ষিতা কিশোরীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
স্বজনরা এসে ইমামকে জিজ্ঞাসা করলে উল্টো তাদেরকে হুমকি-ধমকি দেন ইমাম। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলে ভিক্টিম পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেন। খবর পেয়ে রাতেই ইমামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নির্যাতিত কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ছাতক থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগ আছে, এই মাদ্রাসার কোমলমতি আরো অনেক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও যৌন নির্যাতন করেছেন ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শফিকুল ইসলাম। কিন্তু মান-সম্মানের ভয়ে কোন পরিবার কথা বলেনি।
তবে পবিত্র রমজান মাসে মসজিদের ভেতরেই রোজা রেখে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। তারা এ ঘটনায় লম্পট ইমাম মাদ্রাসা শিক্ষকের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
গ্রামের যুবক মুসল্লি আলী আহমদ বলেন, উনি ইমাম নামের কলঙ্ক। রোজা রেখে মসজিদের ভেতরে ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। আমরা না বুঝে এই বদমাশের পিছনে নামাজ পড়েছি। এই লম্পটের ফাঁসি হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, এখন আরও শুনতে পাচ্ছি এই লম্পট মাওলানা আরো কত মাদ্রাসা ছাত্রীর ইজ্জত নষ্ট করেছে।
ছাতক থানার ওসি মো. মুখলেছুর রহমান বলেন, ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ইমাম শফিকুলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভিক্টিম কিশোরীকে সিলেটে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
