বিগত ৭ মাসে বাংলাদেশের যা অবস্থা তার জন্যে এককভাবে দায়ী সেনাবাহিনী

বিগত ৭ মাসে বাংলাদেশের যা অবস্থা তার জন্যে এককভাবে দায়ী সেনাবাহিনী
শেয়ার করুন

– রঙ রেজা

এখন যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’কে পুনরায় ফিরিয়ে আনাও হয় তাহলেও তিনি উনার আমলের সবচেয়ে খারাপ সময়েও ফেরত্‍ নিতে যেতে পারবেন না।

বিগত ৭ মাসে বাংলাদেশের যা অবস্থা তার জন্যে এককভাবে দায়ী সেনাবাহিনী। নো বাট এন্ড ইফ। ফুল স্টপ।

সেনাবাহিনী যদি নিজ’দের সকল আবর্জনা পরিষ্কার করে পুনরায় দেশ’কে একটা স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সদিচ্ছা রাখেন এবং সেই মতো কাজ করেন তাহলেই কেবল সবকিছু মাফ হয়ে পুনরায় কথিত ‘দেশ প্রেমিক’ হতে পারবেন।

ভারতে জন্ম। মাস খানেক দেশ প্রেমিক ছিলেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম্য দেশ এই কথিত দেশ প্রেমিক’দের কারণে প্রকান্তরের পাকিদের কাছে সার্বভৌম্যত্ব খোয়াইছে জন্ম লগ্নের শুরুতেই।

কেন যে ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় সৈন্য অতি দ্রুত প্রত্যাহার করছিলেন! কেনইবা তিনি পাকিস্থানের মূল ভূখন্ড’কেও অবরুদ্ধ করে রাখেন নি ওয়াদা মাফিক ১৯৫ জন যুদ্ধোপরাধীদের বিচারকার্য্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত!

প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আইএসআই’এর অবাধ বিচরণ। অথচ দিনের শেষে সকল বদনাম ‘র’এর! সক্রিয় থেকে আইএসআই নির্মূল করতে গিয়ে যদি এই বদনামের ভাগীদার হলেও না হয় তা’ এক প্রকার মানান সই হতো।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে যুদ্ধোপরাধীদের বিচার কালে তাঁদের পক্ষপাত অবলম্বন করা হলো! তারপরেও কেন পাকিদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ করা হলো তা ভেবে কূল পাই না! যুদ্ধোপরাধীদের পক্ষপাত অবলম্বন করে টক শো, সভা-সমিতি-সমাবেশ সবই করতে দেয়া হলো। এ কি আজব কারখানা!

সর্বোপরি একাত্তরের দেইল্যা রাজাকার আর ‘আল্লামা মাওলানা’ দেলওয়ার হোসেন সাইদী, একাত্তরের বাচ্চু রাজাকার আর ‘মাওলানা’ আবুল কালাম আজাদের বিচারকার্য্যের বিপরীত প্রতিক্রিয়া হলো অনেকটা যুদ্ধে সামিল হওয়ার মতো। সেই প্রস্তুতি কই ছিলো?

বিগত সরকারের সাংসদ-মন্ত্রী তাঁদের বিচার করতে হলে আন্তর্জাতিক লবি লাগে। ছিলো কি?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একাত্তের রাজাকার আর মার্কিনী’রা ছিল এক পক্ষ। ক্লিনটন দম্পত্তির স্মৃতি সৌধে না যাওয়া কি প্রমাণ করে? এই বিষয়ে মার্কিনী’দের পলিসির পরিবর্তন ঘটেছিলো? অন্যান্য কারণের বাইরেও এই বিচারেও যে মার্কিনী’রা নাখোশ হতে পারে এবং জের হিসাবে লীগ’কে গদিচ্যুত করতে চায়–তা’ নিশ্চিতঃ হই কি করে? লীগ সরকার কি গোপনে লবি করে মার্কিনী’দের বাজিয়ে দেখেছিলো?

শাহবাগ বনাম শাপলা। শাপলা’র শক্তিমত্তা বেশী ছিল নির্দ্বিধায়। একদিনে হয় নি। ২১ বছরে। শাপলা’র পর সড়ক। সেখানেও আরেক ভয়ংকর রূপ। তারপর কোটা। আবার কোটা, সাথে শাপলা আর সড়ক। ৭.৬২!

শেষ লগ্নে আর্মি। প্রথম ধাপে আর্মি নিষ্ক্রিয় ছিল। তা হলে দ্বিতীয় ধাপে কেন আবার?

দ্বিতীয় ধাপে কারফিউ না দিয়ে, হলগুলো বন্ধ না করে, আর্মি না নামিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা উচিত ছিল। সরকারে থেকে তা করতে নেই কিন্তু বিরোধী পক্ষ যে কোন নিয়ম-নীতি-রাজনীতির তোয়াক্কা করে না।

গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা ছিল তা’তে? ১৫-২১’শেই তা ডিউ ছিল। ৫ই অগাস্টে তা ছিল অবধারিত-অবশ্যম্ভাবী।

অত্যন্ত যতজন লীগার নিহত-আহত-পলাতক-সর্বস্বান্ত হয়েছেন তারা যদি বীরের মতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতেন তবে দেশ আজ ‘মবের মুল্লুকে’ পরিণত হতো না। লীগও বহাল তবীয়তে ক্ষমতায় থাকতেন। রাজাকার’রা চিরতরে নির্মূল হতো মুক্তিযোদ্ধার বাংলাদেশ থেকে…

Visited 87 times, 1 visit(s) today