নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশে চলমান জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ঘটনায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এই প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক উপস্থিত থাকবেন। তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান রোরি মুঙ্গোভেন, মানবাধিকার কর্মকর্তা জ্যোৎস্না পৌড়িয়াল এবং প্রধান মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের ওয়েব টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। মিশনটি ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্যাতন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং তা বিশ্লেষণ করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রতিনিধিদল গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করে। মিশনটি দেশের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন বিষয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় জনগণ, গোষ্ঠী এবং সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে।
এছাড়া, ইতোমধ্যে মিশনটি তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে শেয়ার করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এই মিশনটি স্বাধীনভাবে কাজ করেছে এবং তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, “ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনটি ভবিষ্যতে আরও তদন্তের জন্য একটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার হতে পারে এবং এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সংস্কারসহ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে কার্যকরী হতে পারে।”
প্রাথমিক অনুসন্ধানে, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় অন্তত ৬৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে, ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যু হয়, এবং ৫-৬ আগস্টের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন প্রাণ হারান।
এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও আলোচনা সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর এক নতুন আলো ফেলবে।
