নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ৬৪ জেলার বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী প্যানেলের সদস্যদের জয়ের বন্যা বয়ে গেছে। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে।
এরপর একে একে মাদারীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে জয় পায় আওয়ামীপন্থি প্যানেল। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়া আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগ প্যানেল বিজয়ী হয়।
কিন্তু আওয়ামীপন্থিদের বিজয় ঠেকাতে ভোটের মাঠে না পেরে বলপ্রয়োগ শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেয়। ফলে এসব জেলার বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত অধিকাংশ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় জিতেছে।
গত ৬ই জানুয়ারি সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৬টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১২টিতে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা জয় পান। এ ছাড়া বিএনপিপন্থি ছয় ও জামায়াতপন্থি পাঁচজন জয় পেয়েছেন। বাকিদের মধ্যে একজন জাসদপন্থি এবং দুই জনের দলীয় পরিচয় জানা যায়নি।
এরপর মাদারীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে আওয়ামীপন্থিরা ১৪টিতে জয় পেয়েছেন। সভাপতি পদ ছাড়া অন্য সব পদে তারা জয়ী হন।
একইদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের। নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে ১০টিতে অংশ নেয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্যানেল। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৭টি পদেই পরাজিত হয়েছে তারা। জয় মাত্র তিনটিতে।
এরপরই আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের বিভিন্ন জেলার নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা অভিযোগ তুলেছেন, হুমকি-ধমকি, মামলায় জড়ানোসহ নানাবিধ নিপীড়নের ভয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা।
গত ২২শে জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিএনপি-জামায়াতপন্থি প্যানেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রফিক সরকার (বিএনপি) এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রফিকুল ইসলাম।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ জানিয়েছে, বাধা প্রদান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় আওয়ামীপন্থিসহ অন্য আইনজীবীরা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
এদিকে, নওগাঁ জেলা আইনজীবী সমিতির ১৫টি পদের মধ্যে ১৩টি পদেই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এম এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শওকত ইলিয়াস কবির।
এর আগে গত ১লা ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের নেতা রফিকুল ইসলাম সভাপতি এবং মোস্তাফিজুর রহমান সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী এম এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে শওকত ইলিয়াস কবিরকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি-সম্পাদকসহ ৬টি পদে বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। অপর দিকে সহসভাপতিসহ পাঁচটি পদে বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে অপর একটি প্যানেলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।
বিএনপি-জামায়াত দুই গ্রুপে আলাদা নির্বাচন করলেও আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়নি।
টাঙ্গাইল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি–সমর্থিত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছে বিএনপি–সমর্থিত আইনজীবীদের প্যানেল।
আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, গতকাল মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা আদালতে এসে প্রার্থীদের কাছে নির্বাচন না করার বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তাই তারা আজ বুধবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন।
আগামী ১০ই ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম নগরের সমন্বয়ক ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের সমন্বয়ক মো. তানভীর শরীফ, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের সমন্বয়ক মোহাম্মদ রনি ও মোহাম্মদ ওয়াহিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক মো. আবির, আইনজীবী শওকত হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
