পূজায় গিয়ে ছাত্রদল-শিবিরের নির্যাতনের শিকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ডা. সজল

পূজায় গিয়ে ছাত্রদল-শিবিরের নির্যাতনের শিকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ডা. সজল
শেয়ার করুন

 

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা দেখতে গিয়ে ছাত্রদল-শিবির কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ডা. সজল এস. চক্রবর্তী।

সোমবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জিয়াউর রহমান।

মারধরের শিকার ডা. সজল ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এমবিবিএস ৫১তম বর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট হিসেবে কর্মরত।

গত ১লা সেপ্টেম্বর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় ডা. সজলসহ ৮ জন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাকে ক্যাম্পাসে আজীবনের জন্য অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুর ১টার দিকে সরস্বতী পূজা দেখতে ক্যাম্পাসে গেলে ছাত্রদল, শিবির ও হিযবুতি শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে মারধর করে। পরে তাকে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পূজা উদযাপন কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পূজা কমিটির সদস্যরা তাকে বাসায় পৌঁছে দেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ডা. সজলের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার সময় ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন দাবি করে সরস্বতী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানান, ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষিত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পূজা দেখতে আসেন। যারা বর্তমানে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা তাকে ধরে মারধর করে। পরে কলেজ অধ্যক্ষের নির্দেশে তাকে পূজা কমিটির জিম্মায় দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পূজা কমিটি তাকে আসার জন্য নিয়ন্ত্রণ করেনি।”

এ ঘটনাকে তুচ্ছ আখ্যা দিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক জিয়াউর রহমান বলেন, “আমার সঙ্গে তার দেখা হয়নি, আমার রুমেও তাকে আটক রাখা হয়নি। আমি নামাজে ছিলাম। শুনেছি, ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতা ক্যাম্পাসে এসেছিল, যাকে আগে থেকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা হয়তো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।”

উপহাসের সুরে তিনি আরও বলেন, “তারা তাকে একটু ইয়ে করেছে, মানে একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, মারধর না, বেশি কিছু না। শিক্ষকরা সবাইকে শান্ত করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছেন।”

Visited 134 times, 1 visit(s) today