বাংলাদেশের সাথে আর্জেন্ট এলএনজির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি: সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের সাথে আর্জেন্ট এলএনজির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি: সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা
শেয়ার করুন

বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ফেসবুক পোস্টের সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ এলএনজি আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্ট এলএনজির সাথে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি করেছে, যার পরিমাণ বছরে ৫ মিলিয়ন টন।

আশিক চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এটি প্রথম এবং সর্ববৃহৎ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,

“আগামী বছরগুলোতে আমরা যখনই বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে যাবো, আমরা বলতে পারবো যে বাংলাদেশ কিন্তু তার প্রথম পার্টনার ছিলো। তার আমেরিকা ফার্স্ট এর সাথে আমাদের বাংলাদেশ ফার্স্ট। আর আমাদের জন্য বাংলাদেশের ইন্টারেস্ট ফার্স্ট!”

তিনি তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, এই চুক্তির বিষয়টি ইয়াহু, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিউজ সাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তার ফেসবুক পোষ্টে যেটা জানাও নাই, সেটা জানা যায় রয়টার্সের নিউজ সাইটে গিয়ে।

আর্জেন্ট এলএনজি নামক লুসিয়ানা ভিত্তিক একটি এলএনজি কোম্পানির সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে বাংলাদেশ। সেখানে বলা হয়েছে, “If the Argent LNG project in Port Fourchon is completed, its cargoes could be sold to Petrobangla, a Bangladesh state-owned company, according to the agreement.” অর্থাৎ, যদি আর্জেন্ট এলএনজি তাদের ফোরচন পোর্ট সম্পন্ন করতে পারে, তাহলে পেট্রোবাংলার কাছে এলএনজি সরবরাহ করা যেতে পারে।

কি অবস্থায় আছে পোর্ট ফোরচন?

আর্জেন্ট এলএনজির সাইটে গেলে, বাংলাদেশের সাথে চুক্তির কোনো উল্লেখ না থাকলেও পোর্ট ফোরচন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। সেখানে উল্লেখ আছে, ২০২৪ সালে আর্জেন্ট এলএনজি ফোরচন বন্দরের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী এক্সক্লুসিভ লিজ চুক্তি করেছে, যা কোম্পানিটির একটি শীর্ষস্থানীয় এলএনজি উৎপাদনকারী হওয়ার যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। ২০২৯/২০৩০ সালে এই পোর্টের রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,

“আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং বিশ্বব্যাপী উভয় স্তরেই এলএনজি শিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে প্রস্তুত।”

আর্জেন্ট এলএনজি ২০২৯/২০৩০ সালের আগে এলএনজি রপ্তানি করার সক্ষমতা অর্জন করবে। এভাবে কোনো কোম্পানির সাথে ক্রয়চুক্তি হয় না, হয় MOU, যেটা আশিক চৌধুরী তার পোস্টে উল্লেখ করেননি। আর্জেন্ট এলএনজি এটাকে হেডস অব এগ্রিমেন্ট (HOA) নামে অবহিত করছে। তার উপর এই সন্মতিপত্র স্বাক্ষরে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান “পেট্রোবাংলার” কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, যেটা এই চুক্তির যথাযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

বাংলাদেশ ২০২৪ সালের নভেম্বরে পিটার হাসের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কাছ থেকে এলএনজি ক্রয়ের চুক্তি করে, যার প্রেক্ষিতে পিটার হাসের এক্সিলারেট কোম্পানিকে জানুয়ারির ৮ তারিখে পেট্রোবাংলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩.৩৬ মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (MMBtu) পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই এলএনজি আমদানির জন্য মোট ব্যয় হবে ৭৫২ কোটি টাকা, এবং প্রতি MMBtu-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫.৬৯ ডলার। বাজার মূল্য থেকে প্রতি এককে ২.৫ ডলার বেশি মূল্যে সেই আদেশ দেওয়া হয়।

বিস্তারিতঃ পিটার হাসের কোম্পানি থেকে ২.৫ ডলার বেশি মূল্যে LNG আমদানির আদেশ

এছাড়া বাংলাদেশ ২০২৩ সালে কাতারের সাথে এলএনজি ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে পরবর্তী ১৫ বছর বার্ষিক ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন এলএনজি বাংলাদেশে বিক্রি করবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশ কাতার। এই চুক্তিটি ২০২৬ সাল থেকে ২০৪০ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। যার আওতায় ২০২৬ সালে ১২ কার্গো এবং ২০২৭ সালে ২৪ কার্গো এলএনজি বাংলাদেশে আসবে।

Argent LNG এর সাথে চুক্তি সেই অর্থে একটি সমঝোতা স্মারক ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, এই চুক্তিতে রপ্তানির কোনো সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, কোনো দাম উল্লেখ করা হয়নি। সব কিছুই অনিশ্চিত, কারণ আর্জেন্ট এলএনজি ২০২৯/৩০ সালে তার পোর্ট কার্যক্রম শুরু করলে শুধুমাত্র তখন মূল্য, পরিমাণ ও সম্ভাব্যতা উল্লেখ করতে পারবে, জ্বালানী বিক্রয়ের চুক্তি করতে পারবে। তার আগ পর্যন্ত এটি শুধুমাত্র একটি সম্মতিপত্র অথবা ট্রাম্প প্রশাসন কে খুশি করতে একটি পাবলিসিটি স্ট্যান্ট!

Visited 689 times, 1 visit(s) today