কৃষক সমাবেশের জন্য ৬৫ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি ভাইরাল, সমালোচনার ঝড়

কৃষক সমাবেশের জন্য ৬৫ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি ভাইরাল, সমালোচনার ঝড়
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

কুড়িগ্রামে জেলে, তাঁতী ও কৃষকদের নিয়ে মহাসমাবেশ আয়োজনে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এমন মহাসমাবেশকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

‘উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন গণকমিটি’র আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নাহিদ হাসান নলেজ মঙ্গলবার সরকারের কাছে মোট সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দের আবেদন করেন। পরদিন এই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

নাহিদ হাসান নলেজ নিজেকে কুড়িগ্রামের একজন কৃষক সংগঠক পরিচয় দেন এবং দাবি করেন উত্তরবঙ্গের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করছেন; ৬৫ লাখ টাকার বরাদ্দ চাওয়া চিঠির সমালোচনার জবাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন একটি ভিডিও বার্তায়।

তিনি দাবি করেন, এই মহাসমাবেশ কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা। সমালোচকরা সেই আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি এও বলেন, “আমাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।”

২৬শে জানুয়ারি চিলমারীর সফিউল আলম রাজা স্টেডিয়ামে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। সমাবেশে রংপুর, রাজশাহী এবং ঢাকা বিভাগের লক্ষাধিক কৃষকের উপস্থিতি প্রত্যাশিত। সরকারের দুই উপদেষ্টা সমাবেশে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন বলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সমাবেশের উদ্বোধন এবং ফারুক-ই- আজমের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি পেয়েছেন তারা।

বরাদ্দের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৩০ হাজার কৃষকের এক বেলা খাবারের জন্য ৬০ লাখ টাকা, ১০০ ভিআইপি অতিথির জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং স্টেজ ও অন্যান্য আয়োজনের জন্য ৫ লাখ টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার জবাবে নলেজ বলেন, “এই আবেদন আইনসঙ্গত। বরাদ্দ পেলে তা স্বচ্ছতার মাধ্যমে ব্যবহৃত হবে এবং সব হিসাব সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।”

এদিকে, সমাবেশকে সফল করতে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং গণচাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

Visited 283 times, 1 visit(s) today