বিচারব্যবস্থায় ডঃ ইউনুসের কেন এতো অনাস্থা?

বিচারব্যবস্থায় ডঃ ইউনুসের কেন এতো অনাস্থা?
শেয়ার করুন

-আমিনুল হক

ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন ২০২৪ সালের ৮ই আগষ্ট। তার একদিন আগে অর্থাৎ ৭ ই আগষ্ট শ্রম আইনের মামলায় ডঃ ইউনুসকে দেয়া ৬ মাসের কারাদন্ড ও ৫০০০ টাকা জরিমানার রায় বাতিল করে আদালত। ১২ আগষ্ট, ২০২৪ তারিখে ডঃ ইউনুসের বিরুদ্ধে দুদকের দায়েরকৃত মামলাটি বাতিল করা হয়। এই মামলায় ডঃ ইউনুস সহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছিলো এবং মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় ছিলো। ৩ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর প্রদানের রায়টি প্রত্যাহার করা হয়। ২৪ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে দায়েরকৃত আরো ৫টি মামলাও প্রত্যাহার করা হয়। ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেসশন্সের চাকুরিচ্যুত করমর্চারীরা চাকুরি ফিরে পাবার দাবিতে ২০১৯ সালে এই মামলাগুলো করেছিল।

অর্থাৎ ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর হতেই একের পর এক তাঁর ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের মামলাসমূহ প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই। ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস ইতোপূর্বে দাবি করেছেন তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলাই হয়রানীমূলক। সম্প্রতি নিউ এজের সাংবাদিক নুরুল কবীরকে দেয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি দাবি করেছেন তার এসকল মামলা তিনি উপদেষ্টা না হলেও খারিজ হত একসময়। যদি তাই হয়ে থাকে এবং তিনি যদি বিচার প্রক্রিয়ার উপর শ্রদ্ধাশীলই হয়ে থাকবেন তাহলে কেন মামলাসমূহ এতো দ্রূততার সাথে প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে? কেন তিনি নিয়মতান্ত্রিক আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগুলোর সমাধান করলেন না?

ডঃ ইউনুস যে দাবি করেন তাকে হয়রানী করার জন্যই মামলাসমূহ করা হয়েছে, একথাটিও সত্য নয়। আমরা যদি মামলাসমূহের টাইমলাইন দেখি, তাহলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে। শ্রম আদালতের যে মামলায় ডঃ মোহাম্মদ ইউনুসের সাজা হয়েছিলো সেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিলো ২০২১ সালের ০৯ সেপ্টেম্বর। শ্রম আইনে দায়েরকৃত মামলা সমূহ দুই বছরের মাঝে নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও ডঃ ইউনুস এই মামলার বিরুদ্ধে একাধিকবার উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দায়ের করে সময় ক্ষেপন করেছেন। অবশেষে সকল কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি মামলাটির রায় দেয়া হয়। অর্থাৎ মামলাটি চলেছে তিন বছরেরও বেশি সময়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০১৭ সালের ২রা অক্টোবর গ্রামীণ কল্যাণের পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের ট্যাক্স ফাইল পুনযাচাই করে ৬৬৬ কোটি টাকা কর ফাঁকির প্রমাণ পায় এবং সেই কর প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। এই কর আদায়ের প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য ডঃ ইউনুসের পক্ষ থেকেই সর্বমোট ০৪ টি রীট পিটিশন এবং ০৮ টি রেফারেন্স মামলা দায়ের করা হয়। এই সকল মামলার কার্যক্রম চলে ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে। অবশেষে ৪ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে উচ্চ আদালত হতে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা ট্যাক্স প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের ব্যাক্তিগত কর ফাঁকির মামলাটির কার্যক্রমও ২০১৫ সালের ৫ মার্চ শুরু হয়ে আট বছরেরও বেশি সময় পর শেষ হয় ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই। এই মামলায় আয়কর ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস প্রায় ১২ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন।

অর্থাৎ এটি প্রতীয়মান যে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাসমূহে তিনি সকল প্রকার আইনী লড়াইয়ের সুযোগ পেয়েছেন, বছরের পর বছর এসব মামলার কার্যক্রম চলমান ছিলো। ডঃ ইউনুসের দাবি অনুযায়ী উনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাসমূহ যদি হয়রানীমূলকই হয়ে থাকত তাহলে তৎকালীন সরকার দ্রুততার সাথে এসব মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাকে শাস্তি প্রদান করতে পারত। কিন্তু সেটি হয়নি। বরং নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই মামলাসমূহ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। অন্যদিকে তিনি ক্ষমতালাভের সাথে সাথে এ সকল মামলা অবিশ্বাস্য দ্রুততার সাথে বাতিল করে দেয়া হয়েছে । কেন তিনি এসকল মামলা নিয়মততান্ত্রিক উপায়ে মোকাবেলা করলেন না?

এবার আসা যাক ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুদকের মামলাটির বিষয়ে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ডঃ ইউনুসের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে ২০২২ সালের ২রা আগষ্ট। প্রায় ছয়মাস অনুসন্ধান শেষে ৩০ মে, ২০২৩ তারিখে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করে। অধিকতর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে  ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দুদক চার্জশিট দাখিল করা হয়। সেই চার্জশিটের বিরুদ্ধে ডঃ ইউনুস উচ্চ আদালতে আপিল করলে ২রা জুন সেই আপিল খারিজ করে মামলার কার্যক্রম চলমান রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর নিয়মতান্ত্রিক ভাবে মামলার কার্যক্রম চলমান থাকার কথা ছিলো। অথচ ক্ষমতা লাভের পর পরই ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস ১২ আগস্ট দুদকের মামলাটি বাতিল করে দেন। মামলা যদি হয়রানীমূলক বা মিথ্যা হতো তাহলে আইনী লড়াইয়েই তো সেটি খারিজ হতো। কেন অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এই মামলার কার্যক্রম বাতিল করা হলো?

যেহেতু বাতিল হয়ে গেছে তাই এই মামলার বিষয়বস্তু হয়তো আপাতত আর সামনে আসবে না। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে একটি ফিনাসিয়াল করাপশনের টেক্সট বুক এক্সাম্পল। তবুও জেনে নেয়া যাক কেন দুদক মামলা দায়ের করেছিলো ডঃ ইউনুসের বিরুদ্ধে, কি ছিলো সেই মামলার প্রেক্ষাপট এবং কি অভিযোগ আনা হয়েছিলো এতে।

ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণ ফোনের ৩৪.২% শেয়ারের মালিক। গ্রামীণ ফোন থেকে প্রতিবছর প্রায় হাজার কোটি টাকা মুনাফা পেয়ে থাকে গ্রামীণ টেলিকম। শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী যে কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীগণ প্রতিষ্ঠানটির মোট মুনাফার ৫% লভ্যাংশ পাওয়ার কথা থাকলেও গ্রামীণ টেলিকম নিজেদের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দাবি করে শ্রমিক কর্মচারীদের কোন লভ্যাংশ প্রদান করত না। লভ্যাংশ প্রাপ্তির দাবি নিয়ে ২০১৭ সালে ২৭ জন শ্রমিক কর্মচারী শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তী আরো শ্রমিক কর্মচারীগণ মামলা দায়ের করলে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় শতাধিক। মামলা দায়ের সত্ত্বেও লভ্যাংশ প্রদান না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে গ্রামীণ টেলিকম। উপরন্তু, ২০২০ সালে কোভিড মহামারী চলাকালীন সময়ে এক নোটিশে গ্রামীণ টেলিকমের ৯৯ জন কর্মচারীকে চাকুরিচ্যুত করে গ্রামীণ টেলিকম। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ চাকুরি ফিরে পায় গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীরা। লভ্যাংশ প্রাপ্তির মামলাসমূহে আইনী প্রতিকার না পেয়ে ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘গ্রামীণ টেলিকম’ কোম্পানির অবসায়ন চেয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের পক্ষ হতে রিট পিটিশন দাখিল করা হয় উচ্চ আদালতে। উক্ত রিট পিটিশনে ডঃ ইউনূস এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যায্য লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করা, গ্রামীণ টেলিকমের শত শত কোটি টাকা অন্যত্র স্থানান্তর, লবিষ্ট ফার্ম নিয়োগের মাধ্যমে আদালতে প্রভাবিত করে চলমান মামলাসমূহের রায় নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের পূর্বক কোম্পানিটির অবসায়ন ঘটিয়ে কর্মচারীদের পাওয়া বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

উক্ত রিট পিটিশনটি আদালত কর্তৃক মামলা হিসেবে গৃহীত হলে গ্রামীণ টেলিকম তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার এবং বাধ্যতামূলক অবসরে যাবার শর্তে শ্রমিক কর্মচারীদের লভ্যাংশ প্রদানে সম্মত হয়। এটি সহজেই অনুমেয় যে, গ্রামীন টেলিকম যদি নিজেদের অবস্থানে আইনী ভাবে এবং নীতিগতভাবে সঠিক হতো তাহলে মামলা প্রত্যাহারের শর্তে শ্রমিক কর্মচারীদের লভ্যাংশ প্রদানে রাজি হত না। বরং আদালতের বিচারের মাধ্যমেই এই সুরাহা করত। তা না করে লভ্যাংশ প্রদানে রাজি হওয়াই প্রমান করে যে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস জেনেশুনে কোম্পানির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে আসছিলেন।

লভ্যাংশ প্রদানের জন্য গ্রামীণ টেলিকম এবং গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের মাঝে ২৭ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে একটি সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। ৯ মে, ২০২২ তারিখে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকমের ১০৮ তম পরিচালনা পরিষদের সভায় গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের ৪৩৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরিচালনা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০মে, ২০২২ তারিখে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় গ্রামীণ টেলিকম নামে একটি পৃথক একাউন্ট খোলা হয় এবং তাদের ৪৩৭ কোটি টাকা গ্রামীণ টেলিকম হতে স্থানান্তর করা হয়। এই টাকার পুরোটাই শ্রমিক কর্মচারীদের লভ্যাংশ হিসেবে পাবার কথা থাকলেও তাদের লভ্যাংশ প্রদান শুরুর পূর্বেই উক্ত একাউন্ট হতে ২৬ কোটি ২২ লক্ষ টাকা ডাচ বাংলা ব্যাংকে থাকা ‘গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’ নামীয় পৃথক একটি একাউন্টে সরিয়ে নেয়া হয়। উক্ত অর্থ হতে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ের তিন নেতা মোঃ কামরুজ্জামান, ফিরোজ মাহমুদ হাসান এবং মোঃ মাইনুল ইসলাম প্রত্যকে ৩ কোটি টাকা করে গ্রহন করে। এছাড়াও শ্রমিক কর্মচারীদের আইনজীবী এডভোকেট ইউসুফ আলী এবং এডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফকে দেয়া হয় সর্বমোট ১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ শ্রমিক কর্মচারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশের অর্থ হতে গ্রামীণ টেলিকম তাদের পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন শ্রমিক নেতা ও দুই আইনজীবীকে ২৫ কোটি টাকা বেআইনীভাবে প্রদান করে। মূলত এই অপরাধেই তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করেছে।

এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষনীয়। প্রথমত, শ্রমিক কর্মচারীদের লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট বিধি বিধান রয়েছে। এর জন্য পৃথক কোন সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের প্রয়োজন নেই। তাহলে গ্রামীণ টেলিকম কেন শ্রমিক কর্মচারীদের সাথে পৃথক সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্ট করতে গেল? আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের ন্যায্য পাওয়া বুঝিয়ে দিলেই তো হতো। অর্থাৎ এই সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টটি করাই হয়েছে শ্রমিক নেতা এবং আইনজীবীদের অবৈধ সুবিধা প্রদানের জন্য এবং তা পরিচালনা পরিষদ তথা ডঃ ইউনুসের প্রত্যক্ষ নির্দেশনাতেই হয়েছে। দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ টেলিকম কেন শ্রমিক কর্মচারীদের আইনজীবীদের আইনী ফি প্রদান করলো? কখনো কি কেউ শুনেছেন যে বিবাদী পক্ষ বাদী পক্ষের আইনজীবীর খরচ বহন করে? গ্রামীণ টেলিকম তার শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যায্য পাওয়া বুঝিয়ে দেয়ার পর শ্রমিক কর্মচারীরাই তো আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করতে পারত। কিন্তু তা না করে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিকদের দুই আইনজীবীকে কেন ১৬ কোটি টাকা প্রদান করলো? অবাক করা বিষয় হলো উক্ত ১৬ কোটি টাকার মাত্র একটি কোটি টাকা জমা হয়েছে আইনজীবীদের ল’ফার্মের একাউন্টে আইনজীবী ফি হিসেবে। বাকি ১৫ কোটি টাকা দুই আইনজীবী ভিন্ন ভিন্ন একাউন্টে সরিয়ে নেন। ৬ কোটি টাকা দিয়ে তারা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক একটি যৌথ হিসাব খোলেন যেখানে তাদের পরিচয় দেয়া হয় ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামক একটি এনজিওর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে। তারা যদি আইনসঙ্গত ভাবেই ফি প্রাপ্ত হয়ে থাকেন তাহলে কেন তারা মিথ্যা পরিচয় দিয়ে একাউন্ট খুলে সেই টাকা স্থানান্তর করলো। কি করা হতো এই টাকা দিয়ে? তৃতীয়ত, তিন শ্রমিক কর্মচারীকে গ্রামীণ টেলিকম কেন তাদের প্রাপ্য লভ্যাংশের অতিরিক্ত ‍৯ কোটি টাকা প্রদান করলো? আইন অনুযায়ী বাকি শ্রমিকদের মতো তারাও তো তাদের প্রাপ্য লভ্যাংশ পেয়েছে। কিন্তু তার বাইরে এই অতিরিক্ত টাকা কেন দেয়া হলো তাদের? যেখানে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে আসছে তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সেখানে কোন সমঝোতার মাধ্যমে কিংবা কিসের কারণে এই আইনজীবী ও শ্রমিক নেতাদের প্রায় ২৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত দেয়া হলো?

দুদকের মামলাটির কার্যক্রম যদি আইনী প্রক্রিয়ায় যথাযথ ভাবে চলার সুযোগ পেত তাহলে আমরা এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর পেতাম। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ার উপর ডঃ ইউনুসের আস্থা নেই বলেই প্রতীয়মান, তাই তিনি সকল মামলার কার্যক্রম বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছেন। ডঃ ইউনুস ক্ষমতা লাভের প্রধান বিচারপতি সহ আপিল বিভাগের সকল বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন এটর্নী জেনারেল নিয়োগ করা হয়েছে। সকল গুরুত্বপূর্ণ আদালতে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিচারপতিদের পদায়ন করা হয়েছে। এতোকিছু সত্ত্বেও তার কোন মামলাই উনি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে মোকাবেলা করার সাহস পেলেন না। বিচারিক কার্যক্রমের উপর ডঃ ইউনুসের কেন এই অনাস্থা? সময় এর উত্তর একদিন ঠিকই দিবে।

Visited 73 times, 1 visit(s) today