বাংলাদেশ নথি পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় কলকাতায় পি কে হালদারের জামিন

বাংলাদেশ নথি পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় কলকাতায় পি কে হালদারের জামিন
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের পর পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যাওয়া প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ৩ জনকে জামিন দিয়েছে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত।

আজ শুক্রবার ১০ লাখ রুপি বন্ডের বিনিময়ে তারা জামিন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী।

পি কে হালদার ছাড়া জামিন পাওয়া অন্যরা হলেন- স্বপন কুমার মিস্ত্রি ও উত্তম কুমার মিস্ত্রি।

ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, কোর্ট আজকে পি কে হালদারসহ তিনজনের বেইল গ্র্যান্ট করেছেন ১০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে। কারণ বাংলাদেশে যে তাদের তিনজনের কনভিকশন হয়েছে, সেই কনভিকশনের জাজমেন্টের কপি এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বা কোর্টের কাছে প্রডিউস করা যায়নি- এই গ্রাউন্ডে ইনাদের তিনজনকে আজকে বেইল দিয়েছে।

বিচারক আগামী ৯ই জানুয়ারি শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত ২৭শে নভেম্বর জামিন পেয়েছিলেন পি কে হালদারের ভাই প্রানেশ হালাদার, আমিনা সুলতানা ওরফে শর্মি হালদার ও ইমন হোসেন।

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের বিষয়ে ২০১৯ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২০ সালের ৮ই জানুয়ারি পি কে হালদারসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

তখন শোনা যায়, তিনি কানাডায় চলে গেছেন। কিন্তু ২০২২ সালের ১৩ই মে হঠাৎ করেই খবর আসে, পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গে অভিযানে নেমেছে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

পরদিন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বৈদিক ভিলেজ থেকে হালদার ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই বন্দি তিনি।

প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট-২০০২ অর্থাৎ অবৈধভাবে অর্থপাচার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ইডি। পি কে হালদারসহ পাঁচ পুরুষ সহযোগীকে রাখা হয়েছিল কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে। নারী সহযোগী আমিনা সুলতানা ওরফে শর্মি হালদারকে রাখা হযেছিল কলকাতার আলিপুর সংশোধনাগারে।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে বাংলাদেশে ৩৪টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় গত বছরের ৮ই অক্টোবর তাকে ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার আদালত।

 

Visited 101 times, 1 visit(s) today