দরজা ভেঙে ৭৮৫ দরিদ্র পরিবারের জন্য রক্ষিত টিসিবির ডাল লুট

দরজা ভেঙে ৭৮৫ দরিদ্র পরিবারের জন্য রক্ষিত টিসিবির ডাল লুট
শেয়ার করুন
স্থানীয় সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে টিসিবির ৩১ বস্তা ডাল লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. একরাম হোসেন ভূঁইয়া।

সরিষা ইউনিয়নের মেসার্স কাঁচামাটিয়া স্টোরের ডিলার মো. সোহাগ মিয়ার দায়িত্বে ছিল টিসিবির ডালের বস্তাগুলো।

সোহাগ মিয়া বলেন, কার্ডধারী ৭৮৫টি দরিদ্র পরিবারের জন্য রাখা ৩১ বস্তা ডাল ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রেখেছিলাম। আজ এই পণ্য বিতরণ করার কথা ছিল। ৩১টি বস্তায় থাকা প্রায় ৯০ হাজার টাকার ডাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে পরিষদের একটি কক্ষে ডালের বস্তাগুলো রেখে তালা লাগিয়ে বাড়িতে চলে যাই। সকালে টিসিবির পণ্য বিতরণ করতে এসে দেখি ওই কক্ষের দরজা, তালা, চৌকাঠ সবই ভাঙা। ভেতরে ঢুকে দেখি ডালের বস্তাগুলো নেই। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক ইউপি চেয়ারম্যান, ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছি।

এদিকে খবর পেয়ে আজ সকালে আঠারবাড়ি রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। তবে দিনভর অভিযান চালিয়ে কোনো মালামাল উদ্ধার করা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, এসব এক-দুজনের কাজ নয়। ডালের বস্তাও কেউ ঘাড়ে মাথায় করে নিযে যায়নি। নিশ্চয় কোনো গাড়ি এনেছিল তারা। আর ৩১ বস্তা ডাল গাড়িতে তুলতেও সময় লাগার কথা। এতকিছু হয়ে গেলে কেউ না কেউ টের পেত। কিন্তু কীভাবে কী হলো কেউ বুঝতে পারছেন না।

ইউপি চেয়ারম্যান একরাম হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। গতকাল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো হাফ বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে ডালের বস্তাগুলো রাখা হয়েছিল। সেই কক্ষের দরজা মজবুত ছিল না। তবে তালা লাগানো ছিল। দরজা ও তালা ভেঙে ডালের বস্তাগুলো চুরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টিসিবির পণ্য গায়েবের বিষয়টি জেনেছি। ইউপি চেয়ারম্যান, থানা-পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলেছি।

Visited 40 times, 1 visit(s) today