সংবাদ প্রতিবেদন
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। যত্রতত্র রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ, সমাবেশ, দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি, মানববন্ধন হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। আদালতের ভেতরে বিচারককে ডিম ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী-শিশু নির্যাতন বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে খুনের ঘটনা। তুচ্ছ অজুহাতে ‘মব কিলিং’ বা গণপিটুনিতে মানুষ মারার ঘটনা এখন যেন স্বাভাবিক ঘটনা।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, দুই মাসে (সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর) সারা দেশে নারীদের প্রতি সহিংসতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এসময় ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৭৭৪টি। এছাড়া নারী নির্যাতনের ১ হাজার ৮৩৩ এবং শিশু নির্যাতনের ৫২৯টি মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ফলে এসব অপরাধ দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা থেকে সংঘটিত অপরাধের জেরে সহিংসতার শিকার হয়েছেন নারীরা।
পুরুষ শিশু ধর্ষণের সংখ্যা সবসময় থেকে যায় তথ্য-উপাত্তের বাইরে। সামাজিকতা, লোকলজ্জার ভয়ে এসব নিয়ে ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারগুলো গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে চান না। এমনকি মামলাও করা হয়না বেশিরভাগ ঘটনার। ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরণের ঘটনা বেশি ঘটে, আর সেখানে এসব মীমাংসা করে ফেলা হয় আলোচনার মাধ্যমে। ফলে তা থানা পর্যন্ত গড়ায় না।
মানুষের মাঝে ভীতি কাজ করায় অনেক ঘটনায় মামলা পর্যন্ত হয়নি। ফলে নারীদের প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে উঠে এসেনি বলে মনে করেন নারীবাদী সংগঠনগুলো। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার নারীরা বিচারপ্রক্রিয়ায় নানাভাবে বাধার মুখে পড়ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে অপরাধপ্রবণতার হার বেড়েছে বহুলাংশে।
গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাড্ডায় এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ২১শে অক্টোবর তেজগাঁওয়ে নারীর মরদেহ উদ্ধার এবং ১১ই নভেম্বর রূপগঞ্জে এক কিশোরীর ওপর নির্যাতন, এসব ঘটনা মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা তৎপর। তবে অপরাধ দমনে শুধু পুলিশি তৎপরতাই যথেষ্ট নয়। সামাজিক সচেতনতা, আইনপ্রয়োগের সুষ্ঠু ব্যবস্থা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, অপরাধ কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। অপরাধের মাত্রা যাতে কমিয়ে আনা যায় এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, সেজন্য পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।
