আন্তর্জাতিক
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে সহিংসতা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। শনিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী এন বিরেন সিংয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে উত্তেজিত জনতা। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতির সুযোগে তারা বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। একই রাতে আরও তিন মন্ত্রী ও ছয় এমএলএ’র বাসভবনে হামলা চালানো হয়।
মণিপুরের জিরিবাম জেলায় মেইতেই জনগোষ্ঠীর ৬ জনের মরদেহ পাওয়া যাওয়ার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে এক নবজাতক ও দুই নারীও ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা রয়েছে।
এর আগে, সোমবার কুকি সম্প্রদায়ের ১০ জনকে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছিল। পুলিশ তাদের ‘সশস্ত্র জঙ্গি’ হিসেবে উল্লেখ করলেও কুকি নেতারা দাবি করেছেন, তারা হামার নৃগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবক পাহারাদার, যারা পাহাড়ি গ্রাম রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছিল।
ক্ষুব্ধ মেইতেই জনগোষ্ঠী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি বাসভবনে হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। একটি এমএলএ’র বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, বিষ্ণুপুর, থৌবাল ও কাকচিং জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে সহিংসতা এড়াতে সাতটি জেলায় ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা হয়েছে।
মণিপুর ইন্টিগ্রিটির অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠী সিওসিওএমআই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মুখপাত্র খুরাইজাম অথৌবা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে এবং এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
২০২৩ সালের মে থেকে শুরু হওয়া মণিপুরের দাঙ্গা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অর্থনৈতিক সুবিধা ও কোটা নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ২৫০ জন নিহত ও ৬০ হাজারের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের সমাধান এখনো অধরা। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে কিনা, এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
