জনমতে প্রভাব বিস্তার, সিবিএস নিউজের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা

জনমতে প্রভাব বিস্তার, সিবিএস নিউজের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিবিএস নিউজের বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন।

স্থানীয় সময় ৩১শে অক্টোবর টেক্সাসের একটি জেলা আদালতে এ মামলা দায়ের করেন ট্রাম্প, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন যে সিবিএস নিউজ মার্কিন নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটাচ্ছে এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, সম্প্রচারমাধ্যমটি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের ৬০ মিনিটের সাক্ষাৎকারকে এমনভাবে সম্পাদনা করেছে যা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।

ট্রাম্পের মামলার মূল বিষয় ছিল সিবিএস-এর “৬০ মিনিট” অনুষ্ঠানে সম্প্রচারিত কমলা হ্যারিসের একটি সাক্ষাৎকার।

নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে কমলার প্রতিক্রিয়া প্রকাশের একটি দীর্ঘ অংশ সম্পাদিত হয়, যা ট্রাম্পের মতে ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।

তার দাবি, এডিটিংয়ের মাধ্যমে কমলা হ্যারিসের বক্তব্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে তার প্রতি সমর্থন বাড়াতে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সহায়ক।

মামলার নথিতে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, “সিবিএস নিউজ বেআইনি এবং প্রতারণামূলকভাবে সংবাদ বিকৃত করেছে যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার মতো পক্ষপাতমূলক কাজ।”

ট্রাম্পের মতে, মার্কিন ভোটারদের নিরপেক্ষ সংবাদ প্রদানের যে নীতিগত প্রতিশ্রুতি সংবাদমাধ্যমগুলোর রয়েছে, সিবিএস তা লঙ্ঘন করেছে।

ট্রাম্পের অভিযোগের পর সিবিএস নিউজ এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের দাবি “সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক”।

সিবিএস জানায়, তারা এই মামলাকে আইনিভাবে মোকাবিলা করবে এবং তাদের প্রতিবেদনের বৈধতা প্রমাণ করতে প্রস্তুত।

তাদের মতে, সিবিএস বরাবরই সংবাদ উপস্থাপনে বস্তুনিষ্ঠতা ও নীতিগত মূল্যবোধ বজায় রেখে চলে, আর এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও সেই রীতির ব্যতিক্রম হয়নি।

ট্রাম্পের মতে, মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর উচিত ভোটারদের প্রকৃত ও নির্ভুল সংবাদ প্রদান করা, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

ট্রাম্পের দলীয় সূত্রমতে, সিবিএস-এর মতো বড় সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতমূলক রিপোর্ট জনমত প্রভাবিত করতে এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই কারণে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিত বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা।

ট্রাম্পের আইনজীবী আদালতে বলেছেন, “একটি বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ সংবাদ কাঠামো রক্ষা করার জন্য সিবিএস নিউজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু এই মামলায় আমরা দেখেছি যে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু শব্দ ও তথ্য সংযোজন ও বিয়োজন করেছে, যা একজন প্রার্থীকে বেশি সুবিধা দিতে পারে।”

ট্রাম্পের এই মামলাটি কেবল সিবিএস নিউজের বিরুদ্ধে একটি আইনি লড়াই নয়, বরং এটি মূলত মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর নীতিমালা, সংবাদ প্রচারের পদ্ধতি এবং বস্তুনিষ্ঠতার গুরুত্বকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ট্রাম্প সমর্থকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের প্রচারণামূলক সংবাদ পরিবেশন ভোটারদের মাঝে ভুল ধারণা সৃষ্টি করে এবং তারা সঠিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হন।

ট্রাম্পের দল বলছে, তারা আইনি লড়াইয়ে জয়ী হলে এটি অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য একটি উদাহরণ তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে এমন পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড এড়ানো যাবে।

ট্রাম্পের মামলা সম্পর্কে অনেকেই মনে করছেন এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর একটি আঘাত। তবে ট্রাম্পপন্থীদের মতে, সত্যের বিকৃতি এবং সংবাদ বিকৃতির মাধ্যমে ভোটারদেরকে ভুল তথ্য দেওয়া হলে তা কেবল সাংবাদিকতার স্বাধীনতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের এই অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তার রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনও তিনি বারবার সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার দাবি, সংবাদমাধ্যমগুলো পক্ষপাতমূলকভাবে তার বিরোধিতা করছিল।

সিবিএস নিউজের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই মামলাটি শুধু তার নিজস্ব ন্যায়বিচারের আহ্বান নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের সঠিক ভূমিকা পালনের জন্যও একটি বার্তা।

ট্রাম্পপন্থী অনেকের মতে, সংবাদমাধ্যমগুলো যদি নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রচার করতে পারে, তবে মার্কিন নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে।

Visited 8 times, 1 visit(s) today