নওগাঁ কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যু, কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ

নওগাঁ কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যু, কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ
শেয়ার করুন

 

এমএসএফের তথ্য: আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬
২৫৭ মোট নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু,
২২৭ কারা হেফাজতে মৃত্যু,
৩০ পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু,
৪৩ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী

বিশেষ প্রতিবেদক। ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিরাপত্তা হেফাজতে আওয়ামী লীগের ৪৩ নেতা-কর্মীর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফ। এর মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই মারা গেছেন ১৭ জন।

নওগাঁ জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা গেছেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন নবাব (৫৮)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কারাগারে নির্যাতন, যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়া এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে।

জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যুর বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। নওগাঁ জেলা কারাগারের জেল সুপার রত্না রায় জানিয়েছেন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তিনি বন্দি ছিলেন। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের পক্ষের অভিযোগ এবং কারাগারের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্ত এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

মবের শিকার হওয়ার পর গ্রেপ্তার, একাধিক কারাগারে স্থানান্তর

জাকির হোসেন নবাব বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জুন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি মবের শিকার হন তিনি। সেখানে তাঁকে লাঞ্ছিত করার পর ভাটারা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রথমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁকে বগুড়া জেলা কারাগার এবং সেখান থেকে নওগাঁ জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তা আরও গুরুতর। অভিযোগ অনুযায়ী, কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, মৃত্যুর পর ঘটনাটি আড়াল করতে জেল হাসপাতালের অন্য একজন সুস্থ কয়েদির ইসিজি জাকির হোসেন নবাবের নামে করা হয়েছিল। সেই স্বাভাবিক ইসিজির রিপোর্ট ব্যবহার করে তাঁকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে ইসিজি-সংক্রান্ত এই অভিযোগ, কারাগারে নির্যাতন এবং চিকিৎসা না দেওয়ার বিষয়গুলো এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষও এসব অভিযোগ স্বীকার করেনি। ফলে কারাগারের চিকিৎসা নথি, ইসিজি রিপোর্ট, হাসপাতালের রেকর্ড এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা জরুরি।

কারা হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান

জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা কি না, তা বুঝতে সাম্প্রতিক সময়ের কারা ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের ১৭ জুলাই ২০২৬-এর একটি প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

আওয়ামী লীগের ৪৩ নেতা-কর্মীর মৃত্যুর বছরভিত্তিক হিসাব

Chart

সূত্র: এমএসএফের তথ্যের ভিত্তিতে ডয়চে ভেলে, ১৭ জুলাই ২০২৬। ৪৩ জনের হিসাব পুলিশ ও কারা—উভয় ধরনের নিরাপত্তা হেফাজতকে অন্তর্ভুক্ত করে; সবাই কারাগারে মারা গেছেন, এমন নয়।

এমএসএফের এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি সন্দেহ তৈরি করছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশের মৃত্যুর ঘটনায় আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের সময় বলপ্রয়োগ এবং কারাগারে চিকিৎসা না দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

 

সাম্প্রতিক সময়ে কারা হেফাজতে মারা যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের কয়েকটি ঘটনা

১. প্রলয় চাকী — ১১ জানুয়ারি ২০২৬

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি কারাগারে ছিলেন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তিনি ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং স্ট্রোকের পর তাঁকে পাবনা থেকে রাজশাহীতে স্থানান্তর করা হয়।

তবে তাঁর ছেলে সানি চাকী অভিযোগ করেন, বাবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি, তাঁকে সিসিইউতে না রেখে বন্দিদের জন্য নির্ধারিত কক্ষে রাখা হয়েছিল এবং অসুস্থতার বিষয়টি পরিবারকেও জানানো হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে।

২. হুমায়ূন কবির — ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি হুমায়ূন কবির (৫৫) কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মারা যান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মামলায় ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বুকে ব্যথা অনুভব করার পর তাঁকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

৩. আবদুর রহমান — ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুর রহমান (৭০) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি কারাগারে ছিলেন।

৪. সারোয়ার হোসেন নান্নু — ২৭ জুলাই ২০২৫

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন নান্নু (৬০) কারাবন্দি অবস্থায় মারা যান।

কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভোররাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর লক্ষণ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয় এবং ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে স্বাভাবিক মৃত্যুর ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছিল।

৫. ওয়াসিকুর রহমান বাবু — ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ওয়াসিকুর রহমান বাবু (৪৩) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় মারা যান।

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশি হেফাজতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলার সময় কারাগারের অভ্যর্থনা শাখায় তিনি হঠাৎ পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

৬. আবদুর রশিদ — ৩ জানুয়ারি ২০২৬

নওগাঁ জেলা কারাগারে বন্দি আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ (৫৫) নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

৭. বাবুল মিঞা — ২৩ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বাবুল মিঞা (৫২) কারা হেফাজতে মারা যান। ২৩ জুলাই দ্য ডেইলি স্টার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

কারে হেফাজতে মৃত্যুর সংবাদঃ

কারা হেফাজতে মৃত্যু

 

মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে স্বাধীন তদন্তের দাবি

জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যুর ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

1. ২০২৫ সালের ২০ জুন গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ঢাকা, বগুড়া ও নওগাঁ—একাধিক কারাগারে স্থানান্তরের কারণ কী ছিল?

2. কারাগারে থাকার সময় তাঁর শারীরিক অসুস্থতা, চিকিৎসা গ্রহণ এবং হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়ে কী কী নথি রয়েছে?

3. তাঁর নামে করা ইসিজি পরীক্ষাটি সত্যিই তাঁর শরীরের ছিল, নাকি অন্য কোনো বন্দির ইসিজি রিপোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে? এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মূল ইসিজি রেকর্ড, রোগীর পরিচয়, পরীক্ষার সময় এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকর্মীদের বক্তব্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।

4. কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা কী ছিল এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল কি না?

5. ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী উঠে এসেছে?

কারা হেফাজতে থাকা একজন বন্দির নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কোনো ব্যক্তি যে রাজনৈতিক দলেরই সমর্থক হোন না কেন, বিচারাধীন অবস্থায় তাঁর জীবন, চিকিৎসা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব।

অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে আদালতে। কিন্তু বিচার শেষ হওয়ার আগে কারাগারে কোনো বন্দির মৃত্যু হলে সেটিকে কেবল অসুস্থতাজনিত মৃত্যু বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। বিশেষ করে যখন পরিবার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ চিকিৎসায় অবহেলা, নির্যাতন কিংবা তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলে।

জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কারা হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোও স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রতিটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ময়নাতদন্ত, চিকিৎসার নথি, কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করতে হবে।

কারাগার কোনো মৃত্যুকূপ হতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা মামলার অভিযোগ যা-ই থাকুক, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে একজন মানুষের মৃত্যুর জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই হবে।

 

Visited 12 times, 3 visit(s) today