❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
দেশের এক হাজার প্রতিষ্ঠান প্রায় আড়াই বছর ধরে কীটনাশকের নিবন্ধন সনদ ও লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ৬০৩টি পণ্যের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো নিবন্ধন সনদ বা লাইসেন্স না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স বাংলাদেশ লিমিটেড অল্প সময়ের মধ্যে চারটি রাসায়নিক বালাইনাশকের অনুমোদন পেয়েছে।
বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির (পিটাক) ৯১তম সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) পণ্যগুলোর অনুমোদন দেয়।
ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৬ই মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পিটাকের ৮৮তম সভা। এরপর দেশের কোনো রাসায়নিক বা জৈব বালাইনাশকের নিবন্ধন সনদ ও লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।
এদিকে, আবেদন করা ৪ হাজার ৬০৩টি পণ্যের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০টির পরীক্ষাগার পরীক্ষা এবং আরও প্রায় ২ হাজার ৩০০টির মাঠপর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
আবেদনকারী দেশি-বিদেশি অন্য কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কর্টেভা এগ্রিসায়েন্সের চারটি রাসায়নিক বালাইনাশক দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে বলে ডিএইর তথ্য থেকে জানা যায়।
গত ২৪শে সেপ্টেম্বর ডিএইর ৯১তম পিটাক সভায় পণ্য চারটির অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সভায় ৪৫টি জৈব বালাইনাশকও অনুমোদিত হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ১৬ই মে অনুষ্ঠিত ৮৮তম পিটাক সভায় ১৬০টি রাসায়নিক এবং দুটি জৈব বালাইনাশক অনুমোদন পেয়েছিল। দেশীয় কোম্পানিগুলোর বালাইনাশক নিবন্ধনের অনুমোদন দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন মলিকিউল তৈরি হচ্ছে, যেগুলো পুরোনো মলিকিউলের তুলনায় বেশি কার্যকর। বিশ্বজুড়েও নতুন ফর্মুলেশনের বালাইনাশক আসছে। একই সঙ্গে, আগে ব্যবহৃত কীটনাশকের বিরুদ্ধে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এসব পোকা দমনে নতুন মলিকিউল ও অধিক কার্যকর বালাইনাশক বাজারে আনা জরুরি।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নতুন বালাইনাশকের অনুমোদন না হওয়ায় দেশের কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আগে ব্যবহৃত কীটনাশক সব ক্ষেত্রে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করা পোকামাকড় দমনে কার্যকর হচ্ছে না। দেশীয় কোম্পানিগুলোর আবেদন দীর্ঘদিন পড়ে থাকলেও সেগুলো নিষ্পত্তিতে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়নি; অথচ কর্টেভার চারটি পণ্যের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে নিবন্ধন সনদের জন্য এক হাজার কোম্পানি আবেদন করেছে।
দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন বালাইনাশক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ও লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে। আবেদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে এসিআই ফর্মুলেশনস লিমিটেড, পেট্রোকেম (বাংলাদেশ) লিমিটেড, ইনটেফা, সেতু পেস্টিসাইডস লিমিটেড, লারসেন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রাইভেট) লিমিটেড, অটো ক্রপ কেয়ার লিমিটেড, নকন লিমিটেড, সাদিক অ্যাগ্রোকেমিক্যালস কোম্পানি লিমিটেড, রাইসকো ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিমিটেড, করবেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ার ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট, মিমপেক্স অ্যাগ্রোকেমিক্যালস লিমিটেড, পদ্মা অ্যাগ্রো স্প্রেয়ার কোম্পানি লিমিটেড, বন্ধন জেনেটিক্স লিমিটেড, দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড, চেঞ্জস ক্রপ সায়েন্স বাংলাদেশ লিমিটেড, ভার্টেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ব্যাবিলন অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে রয়েছে জার্মানিভিত্তিক বায়ার ক্রপ সায়েন্স, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সিনজেনটা এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই ডজন কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় নতুন পণ্য বাজারজাত করা, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বালাইনাশক নিবন্ধনের জন্য সরকারি ফি হিসেবে ২৩ হাজার টাকা দিতে হয়। নতুন কোম্পানিকে এর আগে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য হতে ৪০ হাজার টাকা ফি দিতে হয়। সংগঠনের সদস্য না হলে সনদের জন্য আবেদন করা যায় না।
এ ছাড়া পরীক্ষাগার পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ, বিদেশ থেকে পণ্য বা নমুনা আনা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে আরও প্রায় আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এত পণ্যের আবেদন দীর্ঘদিন আটকে থাকায় কোম্পানিগুলোও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাদের বক্তব্য, সময় ও অর্থ বিনিয়োগের পরও দীর্ঘদিন আবেদন নিষ্পত্তি না করে বিদেশি কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া দেশের স্বার্থপরিপন্থী। কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হলে সব আবেদনকারীর জন্য সমান ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও তারা মনে করেন।
মার্কিন চুক্তির ফাঁদে দেশের অর্থনীতি
বর্তমানে দেশের কৃষিখাতসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পেছনে বড় অবদান রাখছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের হেঁটে হেঁটে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিটি খাত তার সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দিতে।
এর আগে ঢাকায় দায়িত্বরত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস তার দায়িত্বকালের পুরোটা সময় দেশের রাজনীতিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ করে গেছেন। রাষ্ট্রক্ষমতার পট-পরিবর্তন ঘটার পরেও তিনি বাংলাদেশের রয়ে গেছেন এবং একটি জ্বালানি বিষয়ক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বড় অংশ নিজের দখলে নিয়েছেন।
বর্তমান রাষ্ট্রদূতও একই প্রক্রিয়ায় দেশের কৃষি ও খামার ব্যবস্থাপনায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন- এমন অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূত এভাবে ‘হোস্ট’ রাষ্ট্রের ওপর এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন না- কূটনীতিবিদরা বারংবার সে কথা মনে করিয়ে দিলেও ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের এ নিয়ে ভ্রূক্ষেপ দেখা যায়নি।
কর্টেভার অনুমোদিত চার পণ্য
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে বাজারজাত করার জন্য চারটি বালাইনাশক অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবেদনপত্রে প্রতিষ্ঠানের নাম ডুপন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড হিসেবে উল্লেখ আছে। প্রস্তুতকারক হিসেবে রয়েছে ডাও এগ্রো সায়েন্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং কারিগরি উপাদানের প্রস্তুতকারক হিসেবে কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স এলএলসি।
প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা: ৯৩৩০ জিওনসভিলি রোড, ইন্ডিয়ানাপোলিস, ইন্ডিয়ানা ৪৬২৬৮-১০৫৪, যুক্তরাষ্ট্র।
নথিতে অনুমোদিত পণ্যগুলোর নাম, সক্রিয় উপাদান ও প্রস্তাবিত ব্যবহার এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
- সোলারিস ১১.৭ এসসি: সক্রিয় উপাদান স্পিনেটোরাম ১১.৭০ শতাংশ। ভুট্টার ফল আর্মিওয়ার্ম, ধানের ইয়েলো স্টেম বোরার এবং ঢ্যাঁড়শের ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে।
- গ্যালিলিও ওয়ে ১৮.৭৬ এসসি: এতে পিকোক্সিস্ট্রোবিন ৭.০৫ শতাংশ এবং প্রোপিকোনাজল ১১.৭১ শতাংশ সক্রিয় উপাদান রয়েছে। ধানের শীথ ব্লাইট রোগ দমনে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
- গ্যালিলিও সেনসা ৩০ এসসি: সক্রিয় উপাদান পিকোক্সিস্ট্রোবিন ৬.৭৮ শতাংশ এবং ট্রাইসাইক্লাজল ২০.৩৩ শতাংশ। ধানের ব্লাস্ট বা পোড়া রোগ দমনে ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে।
- নোভিক্সিড ৩.৪১ ওডি: এতে ফ্লোরপাইরক্সিফেন-বেনজাইল ১.৩১ শতাংশ এবং পেনক্সসুলাম ২.১০ শতাংশ সক্রিয় উপাদান রয়েছে। ধানের বিভিন্ন আগাছা দমনে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সনদের মেয়াদ তিন বছর, আছে আমদানির অনুমতিও
চারটি সনদের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনের তারিখ থেকে সেগুলোর মেয়াদ তিন বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ দিন আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে বলে সনদে উল্লেখ রয়েছে।
সনদে পণ্যগুলো উৎপত্তির দেশ থেকে আমদানির অনুমতিও রয়েছে। চারটি সনদেই স্থানীয় প্রস্তুতকারকের নাম ও ঠিকানার জায়গায় ‘প্রযোজ্য নয়’ লেখা হয়েছে বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ আছে। পণ্যগুলোর প্রস্তুতকারক হিসেবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের নিবন্ধন ও অনুমোদনের কাজ দ্রুত শেষ করতে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ডিএইর মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
ওই যোগাযোগের পরই দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তির তৎপরতা দেখা যায় বলে সূত্রটির দাবি।
প্লান্ট প্রোটেকশন উইংয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত পরিচালক নাহিদ আমিনের সময়ে চারটি পণ্যের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিদেশি কোম্পানির পণ্য অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রযোজ্য নিবন্ধন, কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও মাননিয়ন্ত্রণের শর্ত কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকাশিত নাগরিক সনদে বলা হয়েছে, বালাইনাশক নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের মূল্যায়ন ও সুপারিশ এবং এরপর নিবন্ধন সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত বালাইনাশকের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশীয় কোম্পানিগুলোর আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরির কারণ, কোন আবেদন পরীক্ষার কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কোন শর্ত পূরণ না হওয়ায় সিদ্ধান্ত আটকে আছে—এসব বিষয়ে ডিএই সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
কর্টেভার চারটি পণ্য দ্রুত অনুমোদন পাওয়ায় সেগুলোর পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার ফল নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিএইর মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, “পিটাক মিটিং হয়েছে। কোম্পানিকে সনদ দেওয়া হয়েছে এতটুকু আমি জানি। বিস্তারিত বলতে পারবেন পিটাকের সভাপতি।”
মিমপেক্স অ্যাগ্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিপিএ) সভাপতি সাইদুজ্জামান বলেন, “আমাদের সরকার চায় রাসায়নিক বালাইনাশক কমিয়ে জৈব বালাইনাশক বৃদ্ধি করতে। এতে করে দেশের উৎপাদিত খাদ্যপণ্য নিরাপদ হবে। এজন্য রাসায়নিক বালাইনাশক কোম্পানির কয়েকটি পণ্য অনুমোদনের পাশাপাশি জৈব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে অপেক্ষমাণ দেশীয় কোম্পানির বিষয়ে ডিএইর মহাপরিচালক ও পিটাকের সভাপতিকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা বলছেন ধারাবাহিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হবে। এর আগে সাব-পিটাকের মিটিংয়ে বলা হয়েছিল, পরবর্তীতে ১৫ দিনের মধ্যে মিটিং হবে; তা আর হয়নি।”
বিসিপিএর এক সদস্য বলেন, “দীর্ঘদিন পিটাক মিটিং হয়নি—এটা সত্যি। অনেকের পণ্যের অনুমোদন আটকে আছে, এটা বৈষম্য। তারপর সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে দেশের কোম্পানিকে অনুমোদন না দেওয়া ও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রাখা দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে বাধাগ্রস্ত করা।”
ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এস. এম. মোস্তাফিজুর রহমান শ্যামল বলেন, “বায়ো-পেস্টিসাইডকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। তবে আমদানি করা পণ্য দিয়ে দেশ কখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় না। দেশের যেকোনো কোম্পানিকে ছোট থেকে বড় হওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া বিশ্বের প্রতিযোগী বাজারে টিকে থাকা কঠিন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে নিজ দেশের কোম্পানিগুলোকে ছোট থেকে বড় হতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়। তাতেই দেশ আরও এগিয়ে যায় এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়।”




