‘হেনস্তা নয়, ইউনূসের কাছে জবাব চেয়েছি’, দাবি বিক্ষোভকারীর

‘হেনস্তা নয়, ইউনূসের কাছে জবাব চেয়েছি’, দাবি বিক্ষোভকারীর
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬।

 


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে স্লোগান ও বিক্ষোভের ঘটনায় হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী। তাঁর দাবি, ড. ইউনূসকে হেনস্তা নয়, বরং তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে জবাব চেয়েছেন তিনি।

এমদাদ চৌধুরী বলেন,

‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেখে আমি প্রথমে প্রশ্ন করি, আপনি কি ড. ইউনূস? এরপর বলেছি, আপনি ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশকে ধ্বংস করেছেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে কয়েকজন উচ্চস্বরে বিভিন্ন মন্তব্য ও স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের মুখে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’, ‘গো ব্যাক’ এবং ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’সহ বিভিন্ন মন্তব্য শোনা যায়। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা ড. ইউনূসকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিদের একজন হিসেবে এমদাদ চৌধুরীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি বিভিন্ন প্রশ্ন ও মন্তব্য করেছেন। তবে শারীরিক আক্রমণ, গালিগালাজ কিংবা তাঁর গায়ে পানি ছিটানো বা ডিম ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমদাদ।

তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় ভদ্রভাবে প্রশ্ন করেছি। তাঁকে গালিগালাজ করিনি, গায়ে হাত তুলিনি, পানি ছিটাইনি কিংবা ডিমও মারিনি। আমি শুধু প্রশ্ন করেছি। প্রশ্ন করার অধিকার আমার রয়েছে।’

ড. ইউনূসের দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশে তিন হাজার পুলিশ সদস্য এবং হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন এমদাদ। তাঁর নিজের বাড়িসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এমদাদ বলেন, ‘আমি তাঁকে প্রশ্ন করেছি, এসব ঘটনার দায় কে নেবে? কিন্তু তিনি আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।’

ড.  করার বিষয়টিও স্বীকার করেন এমদাদ। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে সন্ত্রাসী বলেছি। আমার মতে, তিনি একজন সন্ত্রাসী। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ঘটনাগুলোর জন্য তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে।’

তবে বাংলাদেশে হতাহতের সংখ্যা এবং এসব ঘটনার জন্য ড. ইউনূসের প্রত্যক্ষ দায়ের বিষয়ে এমদাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, নিউইয়র্ক সময় ১২ অক্টোবর কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনাল দিয়ে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন প্রবাসী নেতা-কর্মী তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান ও বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

Visited 10 times, 10 visit(s) today