❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অজ্ঞাত বা পরিচয়হীন মরদেহের সংখ্যা, যা প্রতিনিয়ত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন থেকে চার বছর ধরে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫৭টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
সম্প্রতি রাজধানীতে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস অপরাধের মাত্রা বহুগুণ বাড়ার চিত্র দেখা গেছে। গত ১২ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা ও দুই হাত। পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী খাল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই দিনে হাইকোর্ট এলাকা থেকেও দুই ব্যক্তির পরিচয়হীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী:
-
২০২৪ সাল: ৫০৪টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার।
-
২০২৫ সাল: ৬৪১টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার।
- ২০২৬ সাল (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত): ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মানুষই প্রকৃতপক্ষে পরিচয়হীন নয়। অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও দক্ষতার ঘাটতিকে অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন তারা।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, মরদেহ ও অপরাধীদের শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থাপনা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। অপরাধের স্থান বা এলাকাগুলোতে প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার ও জোরদার স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান তারা।
অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়োমেট্রিক ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে সাধারণ (ম্যানুয়াল) পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়, যাতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে।
তদন্তের স্বার্থে ও অপরাধীরা যেন সতর্ক হতে না পারে, সে কারণে পুলিশি তদন্ত পদ্ধতির সকল কৌশল প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হয় না বলে জানান বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র এইচ এম শাহাদাত হোসাইন।
হিমাগারগুলোতে মরদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং শনাক্তকরণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক নৃশংস অপরাধের ক্লু বা প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, দ্রুত পরিচয় শনাক্তকরণ এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর তাগিদ দিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।


