মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রধানমন্ত্রী

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রধানমন্ত্রী
শেয়ার করুন

❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক


মরক্কোর ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহের নির্বাচনে জয়ের পর ফাতিমা জাহরা আল-মানসুরিকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ।

নিয়োগের পর আল-মানসুরি একে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সরকারপ্রধান হয়েছেন, যা কেবল তাঁর নয়, দেশের সব নারীর জন্য গর্বের। তিনি বলেন, রাজা সব সময়ই মরক্কোর নারীদের সক্ষমতায় বিশ্বাস করে এসেছেন এবং নারীরা সম্মান ও কদর পাওয়ার যোগ্য।

অনেক মরক্কোবাসী এই নিয়োগকে প্রতীকী অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন বলেন, এটি সম্মানের বিষয় এবং এই পদে এটাই প্রথম কোনো মরক্কান নারী। আরেকজন তাঁকে সরকার পরিচালনায় সক্ষম নারী বলে মনে করেন। অন্য একজনের মতে, এটি দেশের সব মা ও নারীর জন্য গর্বের। তাঁরা আরও বলেন, আরব বিশ্ব ও আফ্রিকায় এই পদে আসা তিনি দ্বিতীয় নারী।

তবে প্রতীকী এই অর্জনকে শিগগিরই প্রাত্যহিক সরকার পরিচালনার বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। মরক্কোয় তরুণদের বেকারত্ব অত্যন্ত বেশি। সর্বশেষ হিসাবে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ২৭ শতাংশ কর্মহীন, যা জাতীয় হারের প্রায় তিন গুণ। নতুন সরকারকে স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ও তদারক করতে হবে, যার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ চলছে। তবে তাঁর প্রথম কাজ নির্বাচনী সাফল্যকে একটি কার্যকর জোট সরকারে রূপ দেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তাদের মধ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে হয়। দলের প্রধানকেই বাছাই করতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই, তবে ঐতিহ্যগতভাবে তা-ই হয়ে আসছে। সে কারণেই পিএএম দলের প্রধান হিসেবে আল-মানসুরিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

আল-মানসুরি মরক্কোয় সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি দুইবার মারাকেশের মেয়র ছিলেন এবং মারাকেশের একটি অভিজাত পরিবার থেকে এসেছেন। পিএএম দলের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিদায়ী সরকারের আবাসন ও নগর পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে জাতীয় পর্যায়েও কাজ করেছেন। দলীয় নেতৃত্ব, সংসদ ও স্থানীয় শাসনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সামনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি তাঁর জন্য কঠিন মেয়াদ হতে যাচ্ছে। সরকারকে একদিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করতে হবে, অন্যদিকে সামলাতে হবে অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ বেকারত্ব এবং উন্নত সেবা ও আঞ্চলিক সমতার দাবি।

তবে এই নিয়োগে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না তাঁরা। তাঁদের মতে, স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রায় ৭০ বছরে এই প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পাওয়াটা ঐতিহাসিক, কিন্তু আল-মানসুরি একটি সুপরিচিত দলের প্রতিনিধি, নতুন মুখ নন, বরং ব্যবস্থার ভেতরের মানুষ। দেশের গতিপথ নির্ধারণে রাজতন্ত্রের ভূমিকাই মুখ্য, তাই তাঁর কাজের সুযোগ সীমিত এবং পথ অনেকটাই আগে থেকে নির্ধারিত। তাঁর কাজ সেটি বাস্তবায়ন করা। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর নিজের রেকর্ড মিশ্র বলা চলে।

আঞ্চলিকভাবে এই নিয়োগ বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতীকী মূল্য ও প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণ, তবে এতে মরক্কো হঠাৎ লিঙ্গসমতার অগ্রদূত হয়ে যায় না। দেশটি এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু কাজ করেছে, কিন্তু নারীদের জন্য, বিশেষত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, পরিবেশ এখনো চ্যালেঞ্জিং। কর্মশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ কম এবং লিঙ্গসমতায় অনেক ব্যবধান পূরণ করতে হবে। তবু এই ঘটনার গুরুত্বকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, মরক্কো ও পুরো অঞ্চলের জন্যই এটি উল্লেখযোগ্য।

Visited 1 times, 1 visit(s) today