আজ নিশিনে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে ৬৩ রানে হেরে বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস অভিযান এক ঐতিহাসিক পদকহীন ব্যর্থতায় শেষ হয়েছে। এরপর দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন স্বীকার করেছেন যে দল ‘ভীষণ লজ্জিত’ এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
পরাজয়ের পর সালাউদ্দিন বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা ভীষণ লজ্জিত। কোচ হিসেবে আমার মনে হয় আমরা ব্যর্থ হয়েছি এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারিনি। এটি খুবই হতাশাজনক এবং আমি পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাই।’
সালাউদ্দিন স্বীকার করেন যে বাংলাদেশ দলগতভাবে পারফর্ম করতে পারেনি।
‘তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে আমরা অবশ্যই লজ্জিত এবং এটি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় তা বের করার চেষ্টা করব। তবে সত্যি বলতে, আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে ভালো খেলতে পারিনি।’
একটি পদক জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েও খালি হাতে ফেরার এই অভিযানে যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন কোচ।
‘সবাই এখানে জিততে এসেছিল। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম এবং তা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা ভালো খেলতে পারিনি। আশা করি ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো খেলবে,’ বলেন তিনি।
২০১০ সালে জেতা সোনা পুনরুদ্ধার করার আশায় বাংলাদেশ একটি পূর্ণশক্তির দল পাঠালেও দুটো ম্যাচেই হেরে চতুর্থ স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছে—সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে এবং ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে।
সর্বশেষ এই হারটি ছিল বিশেষত বেদনাদায়ক। কোরোগি স্পোর্টস পার্কে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলটি নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে। জবাবে বাংলাদেশ ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায়।
টাইগারদের জয়ের তাড়া কার্যত চার ওভারের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়, যখন মাত্র ১৮ রানে পড়ে যায় চার উইকেট। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম এবং অধিনায়ক লিটন দাস—সবাই খাতা খোলার আগেই আউট হন।
পারভেজ হোসেন ইমন ২৬ বলে ২০ এবং ইয়াসির আলী ১৬ বলে ২১ রান করেন। সর্বোচ্চ ২৬ রান আসে নাসুম আহমেদের ২৮ বলের ইনিংস থেকে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে নুয়ান থুশারা, থারিন্ডু রত্নাযাকে, বিজয়কান্ত বিয়াসকান্ত এবং ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে রত্নাযাকে ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কাকে একটি প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ এনে দেন।
এই ফলাফল বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও কৌশল বাস্তবায়ন নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে মূল খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং লিটনের অধিনায়কত্ব নিয়ে, যিনি সেমিফাইনালে তিন বলে দুই রান করার পর এই ম্যাচে প্রথম বলেই আউট হন।
তবে সালাউদ্দিন এই ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছেন যে খেলোয়াড়দের মধ্যে জেতার ইচ্ছে বা প্রতিশ্রুতির অভাব ছিল।
‘না, না, তা ঠিক নয়। খেলোয়াড়রা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। তবে আমার মনে হয় আমরা আমাদের গেম প্ল্যান ঠিকমতো মাঠে প্রয়োগ করতে পারিনি,’ বলেন তিনি।
‘আমাদের মূল বোলাররা প্রত্যাশিত জায়গায় বোলিং করতে পারেনি। তবে স্পিনাররা খুব ভালো বোলিং করেছে।’
ব্যাটিং ধস ছিল আরেকটি বড় চিন্তার কারণ।
‘ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও আমার মনে হয় আমরা বড্ড বেশি তাড়াহুড়ো করেছি। পাওয়ারপ্লেতেই যখন পাঁচ বা ছয়টি উইকেট পড়ে যায়, তখন সেখান থেকে ম্যাচে ফেরা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ অন্যান্য দলের মতো আমাদের তেমন অলরাউন্ডার নেই,’ বলেন সালাউদ্দিন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে লক্ষ্যটি বাংলাদেশের নাগালের মধ্যেই ছিল।
১৬৫ রান তাড়া করা সম্ভব ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। আমার মনে হয় এই উইকেটে এটা করা সম্ভব ছিল।’
আরও একটি ব্যয়বহুল স্পেলের পর মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাঁহাতি এই পেসার সেমিফাইনালে ২৩ রান দেওয়ার পর এই ম্যাচে দেন ২৫ রান। সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দে না থাকা সত্ত্বেও কেন মোস্তাফিজুর রহমানকে বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
তবে মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর ভরসা রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সালাউদ্দিন।
‘ফিজ (মোস্তাফিজুর রহমান) সব সময়ই আমাদের ডেথ ওভারের বিশেষজ্ঞ। আমরা এখনো তার ওপর বিশ্বাস রাখি। সে যদি আবার ব্যর্থও হয়, তাহলেও আমরা তাকে একইভাবে সমর্থন করে যেতে পারি,’ বলেন তিনি।
Visited 3 times, 3 visit(s) today
