উচ্চমূল্যে পিটার হাসের কোম্পানির সাথে ইউনূসের চুক্তি সত্ত্বেও এলএনজি সরবরাহে ব্যর্থতা, জ্বালানি সংকটের মূল কারণ

উচ্চমূল্যে পিটার হাসের কোম্পানির সাথে ইউনূসের চুক্তি সত্ত্বেও এলএনজি সরবরাহে ব্যর্থতা, জ্বালানি সংকটের মূল কারণ
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর নামে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় কোম্পানিটি পর্যায়ক্রমে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করার কথা।

তবে চুক্তিতে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করা হলেও কোম্পানিটি প্রতিশ্রুত কার্গো সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিশ্রুতি মতে ২০২৬ সালে ১২টি কার্গোর মধ্যে মাত্র অর্ধেক সরবরাহ করতে পেরেছে অ্যাক্সিলারেট এনার্জি। এর ফলে দেশে এলএনজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং তা ব্যাপক বিদ্যুৎ ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাসের সঙ্গে যুক্ত এই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে ১৫.৬৯ ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে গড়ে ২.৫ ডলার বেশি। চুক্তি অনুযায়ী ২০৪০ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে ০.৮৫ থেকে ১ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি হওয়ার কথা। ২০২৬-২৭ সালে ২৮টি কার্গো এবং পরবর্তী বছরগুলোতে বছরে ১৬টি কার্গো আসার কথা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি দেশে এলএনজি সরবরাহে নতুন করে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত কার্গো না আসায় এবং টার্মিনালে স্টক ফুরিয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালিতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চমূল্যে চুক্তি করেও সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প উৎস থেকে স্পট মার্কেটে এলএনজি কেনার চেষ্টা চললেও মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তা সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

Visited 15 times, 1 visit(s) today