❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম সংকট। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, বর্তমানে সমাজে বহু সমস্যা বিরাজ করছে এবং সরকার সেসব সমস্যা যতটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা করছে। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল, নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা ইরানের শাসনব্যবস্থার “পতন” নিশ্চিত করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর এই ঘোষণা এলো। এর জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ইরান এখন একইসঙ্গে অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা—তিন ক্ষেত্রেই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের মুখোমুখি।
তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নিজেই দাবি করছেন যে তিনি ইরানের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ ও পঙ্গু করে দেওয়ার মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন।
এই পরিস্থিতিতে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের মতো বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটিতে ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার বিনিময় হারের অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত কমছে।
গত বছরের শেষদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেই অস্থিরতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়, এবং তারা এই সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
তবে বিদেশভিত্তিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, যাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
পেজেশকিয়ান রোববারের ভাষণে জনগণের উদ্দেশে বলেন, সরকার আন্তরিকভাবে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার সংকট ও বেকারত্ব মোকাবিলার চেষ্টা করছে, যাতে সাধারণ মানুষ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে ভবিষ্যতে বসবাস করতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আনুমানিক ২ হাজার ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক।
এদিকে, নতুন নিষেধাজ্ঞার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানাতে আগামী সোমবার সংবাদ সম্মেলন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। সেখানে ইরানের ওপর আরোপিত নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
