জুলাই২৪ এর ভুয়া মামলায় ফেসে যাচ্ছেন মামলার বাদীরা, প্রশ্নের মুখে জুলাই শহিদ সংখ্যা

জুলাই২৪ এর ভুয়া মামলায় ফেসে যাচ্ছেন মামলার বাদীরা, প্রশ্নের মুখে জুলাই শহিদ সংখ্যা
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

 

ঢাকা: জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা মামলাগুলোর তদন্তে বড় ধাক্কা খাচ্ছেন মামলার বাদীরা। পুলিশের বিভিন্ন বিশেষ ইউনিটের দাখিল করা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে একের পর এক মিথ্যা তথ্য, ভুয়া অভিযোগ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার প্রমাণ। এতে শুধু নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেই নয়, তথাকথিত ‘জুলাই শহিদ’ তালিকা ও গেজেট নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

 

তদন্ত সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অন্তত ১১০টি মামলায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এসব মামলায় জীবিত ব্যক্তিকে নিহত দেখানো, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা, পাওনা টাকা আদায়, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে মামলা দায়েরের ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকটি মামলায় জীবিত ব্যক্তিকে শহীদ সাজিয়ে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এসব বাদীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে দু’একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বাকি তথ্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।

বিতর্কিত জুলাই শহিদ গেজেট

আরও পড়ুনঃ জুলাই গেজেট স্ক্যাম

 

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জুলাই শহিদ তালিকা নিয়ে। খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বাখের আলী (ছদ্মনাম ‘কবির’) কে জুলাই শহীদ হিসেবে বিতর্কিত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এমন অনেকের নাম রয়েছে, যাদের অধিকাংশই জুলাই যোদ্ধাদের হামলায় নিহত হয়েছেন অথবা ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে মারা গেছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শহিদের সংখ্যা বড় করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

 

পিবিআইসহ অন্যান্য তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাকে জুলাই আন্দোলনের ঘটনা সাজিয়ে মামলা করা হয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে পিতা ছেলেকে দিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করিয়েছেন ডিভোর্স বা পারিবারিক বিরোধের জেরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “একটি পক্ষ মামলা দিয়ে অর্থ আয়ের চেষ্টা করেছে। ব্যবসায়ীদের ধরে ধরে আসামি করা হয়েছে এবং এজাহার পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। ভিকটিম, বাদী এবং ঘটনাস্থল—সবই মিথ্যা। কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।”

মামলার বাদীরা এখন অস্বীকার করছেন

তদন্তে শনাক্ত হওয়া কিছু বাদী এখন মামলা করার বিষয়টি অস্বীকার করছেন। অনেক মামলায় দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তি অথবা বহু আগে মারা যাওয়া লোকজনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলা তদন্ত থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করেছেন তাদের আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনাগুলো শুধু আদালত ও তদন্ত সংস্থাগুলোকে বিভ্রান্ত করেনি, বরং জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ঘটনা ও শহিদদের তালিকা নিয়েও জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আরও অনেক মামলায় ভুয়া তথ্য উদঘাটিত হলে জুলাই শহিদ সংখ্যা ও গেজেট নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Visited 6 times, 1 visit(s) today