স্পোর্টস ডেস্ক
২০ জুলাই, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তার কাছে হার মানলো লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। এই হারে চারটি বড় টুর্নামেন্ট টানা জেতার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়া থেকে বঞ্চিত হলো আর্জেন্টিনা।
পুরো ম্যাচেই খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল স্প্যানিশদের হাতে। নব্বই মিনিটের নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের বক্সের ধারেকাছেও তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। পুরো ম্যাচ মিলিয়ে তাদের এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল মাত্র ০.২, বিপরীতে স্পেনের ছিল প্রায় ১.৯৪। লামিনে ইয়ামালরা একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে প্রায় পুরো ম্যাচ জুড়েই ব্যস্ত রেখেছিলেন, অথচ আর্জেন্টিনা মেসিকে ঘিরে তেমন কোনো কার্যকর জবাব দিতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ে এনজো ফের্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা, যা তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরান তোরেসের গোলে ভাঙে অচলাবস্থা, আর সেই এক গোলই যথেষ্ট হয় স্পেনের বিশ্বজয়ের জন্য।
এমি মার্টিনেজ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে বহুক্ষণ ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও, দলের সামগ্রিক আক্রমণভাগের নিষ্ক্রিয়তা শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণকেই স্পষ্ট করে তোলে। মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ শেষ হলো হতাশা দিয়ে— টানা তৃতীয় বড় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেলো আলবিসেলেস্তেদের জন্য।
দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের এই সাফল্য নতুন কিছু নয়— কোচ হিসেবে তার সময়ে দলটি প্রায় অপরাজেয়, আর এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নের পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েও প্রমাণ করলো, ধৈর্য আর সংগঠিত ট্যাকটিক্সই আধুনিক ফুটবলে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
