❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন-সংক্রান্ত বিরোধ কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন নিহতের আপন ছোট ভাই, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক আলমগীর সিকদার। আর পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন আলমগীরের অনুসারী ও মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ভাড়াটে খুনিদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে বের করে আনার ব্যবস্থাও পরিকল্পনার অংশ ছিল। পরে তারা পর্যটক পরিচয়ে কয়েকদিন মিঠামইনে অবস্থান করে জাহাঙ্গীর আলমের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করেন। হত্যাকাণ্ডের দিন তার বাড়ির বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া এক ভাড়াটে খুনির একটি ভিডিওতে ‘খ’ আদ্যাক্ষর নামীয় এক ব্যক্তির কথা উঠে আসে, যিনি জামিনের ব্যবস্থা করে হত্যার দায়িত্ব দেন বলে দাবি করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ‘খ’ আদ্যাক্ষরের ব্যক্তি মোকাররম হোসেন খোকা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নিহত জাহাঙ্গীর আলম তার ছোট ভাই আলমগীর সিকদারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ছিলেন। একই সঙ্গে মোকাররম হোসেন খোকাও ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন।
মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ মিলিয়েই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪-এর ৫ই আগস্টের পর থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন আলমগীর সিকদার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য তাদের ওপর হামলা, ভুয়া মামলা, মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল হামিদের বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাটে নেতৃত্ব দেন আলমগীর।
গত বুধবার রাতে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। পরে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে তিন ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করেছে।
তবে আলমগীর সিকদার ও মোকাররম হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।


