স্থানীয় প্রতিনিধি
১৩ জুলাই, ২০২৬।
নরসিংদী: নরসিংদী জেলার মির্জাপুর থানার রায়পুরা গ্রামে একটি মহিলা মাদ্রাসা ভাঙচুর করে দিয়েছে স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার কিছু কথিত হুজুরের বিরুদ্ধে ছোট ছোট মেয়েদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠছিল। সর্বশেষ ঘটনায় একটি ১০ বছরের শিশুকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও গ্রামবাসীরা মাদ্রাসাটি ভেঙে দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রায়পুরা গ্রামের ওই মহিলা মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন হুজুরের বিরুদ্ধে শিশু ও কিশোরীদের লালসার শিকার হওয়ার অভিযোগ ছিল। গ্রামবাসীরা বলছেন, পরপর এমন ঘটনায় তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সর্বশেষ ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসার পর গ্রামবাসীরা আর নীরব থাকতে পারেননি। ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তারা মাদ্রাসাটি ভাঙচুর করেন।
এলাকায় যোগাযোগ করে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ জমে ছিল এবং শিশুটির ঘটনা ছিল ‘শেষ সীমা’।
বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের এমন প্রতিক্রিয়া এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, প্রশাসন যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজ। শিশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবিও উঠেছে।
