যুবলীগ নেতাকে থানায় নেওয়ার পর জনবিক্ষোভের তোড়ে মুক্তি দিয়ে পিছু হটল পুলিশ

যুবলীগ নেতাকে থানায় নেওয়ার পর জনবিক্ষোভের তোড়ে মুক্তি দিয়ে পিছু হটল পুলিশ
শেয়ার করুন

❐ জেলা প্রতিনিধি


পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এক যুবলীগ নেতাকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর, মাঝরাতে কয়েকশো গ্রামবাসীর তুমুল বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। খাসজমি ও স্থানীয় বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে এই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

গত ৩রা জুলাই, শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ভাঙ্গুড়া থানায় এই রুদ্ধশ্বাস ঘটনাটি ঘটে। আটক হওয়া রিপন সরকার (৩৫) উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং পাটুলিপাড়া গ্রামের হাবিবুর সরকারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেবুনিয়া-বাঘাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পাটুলিপাড়া গ্রামের একটি খাসজমি ও স্থানীয় ছোট বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইউনুস সরকার নামে এক ব্যক্তির তীব্র বিরোধ চলে আসছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনুস সরকার ওই সরকারি জায়গা দখল করে একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সেই ঘর ভেঙে সেখানে পুনরায় মাছের বাজার বসান এবং স্থানটিকে অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যানার টাঙিয়ে দেন।

এই ঘটনার পর ইউনুস সরকার জায়গাটি নিজের দাবি করে যুবলীগ নেতা রিপন সরকারসহ কয়েকজন গ্রামবাসীকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, এই খাসজমি উদ্ধারের আন্দোলনে তাদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রিপন সরকার। তাকে মূলত আন্দোলন থেকে সরিয়ে দিতে এবং হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ইউনুস সরকারের দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ আটক করে।

শুক্রবার রাতে রিপনকে আটকে করে থানায় নেওয়ার খবরটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। লাঠিসোঁটা ও স্লোগানসহ প্রায় কয়েকশো গ্রামবাসী ভাঙ্গুড়া থানা চত্বরে এসে হাজির হন এবং থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের থানা চত্বরের বাইরে সরিয়ে দেয়। এরপর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের শীর্ষ পাঁচজন প্রতিনিধিকে ওসির কক্ষে আলোচনার জন্য ডাকা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর মধ্যরাতে রিপন সরকারকে স্থানীয়দের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং প্রতিনিধিদল তাকে বীরের বেশে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম এক ভিন্ন দাবি করেছেন।

তিনি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “রিপন সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা করার একটি গোপন অভিযোগ ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই করে নাশকতার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আগের কোনো মামলাও নেই। তাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

Visited 9 times, 1 visit(s) today