বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি আলোচিত ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমের বিরুদ্ধে ভিক্টিম শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসংবেদনশীল আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, গত ১২ তারিখ রাতে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় স্ক্রিনে ভিক্টিমের চিৎকার শোনা গেলে প্রক্টর রাশিদুল আলম হাসতে হাসতে বলেন, দেখছেন আমাদের ক্যামেরায় কত ভালো সাউন্ড শোনা যায়! এমন মন্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর ভিক্টিমকে প্রায় তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখে বিভিন্ন আইনি জটিলতার কথা বলা হয়, যা মানসিকভাবে তাকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল ভিক্টিমকে সহায়তা ও নিরাপত্তা দেওয়া, কিন্তু বাস্তবে উল্টো আচরণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে তিনি আন্দোলনরত ছাত্রীদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যা দেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক রাশিদুল আলমকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তা, প্রশাসনের জবাবদিহি ও ভিক্টিম সাপোর্ট ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার মতো সংবেদনশীল ঘটনায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
