স্পোর্টস ডেস্ক
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে এক অবিস্মরণীয় সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে বাংলাদেশকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করলেন লিটন দাস। তাঁর বীরত্বপূর্ণ ইনিংসের বদৌলতে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের লড়াকু স্কোর গড়তে সক্ষম হয় টাইগাররা। জবাবে প্রথম দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলেছে পাকিস্তান। সফরকারীরা এখনো ২৫৭ রানে পিছিয়ে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে লিটনের দুর্দান্ত উদ্ধার অভিযান
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। লাঞ্চের পর মাত্র ১৫ রান যোগ করতেই ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন দল তীব্র সংকটে, তখন ক্রিজে আসেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস।সেখান থেকে লেজের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান লিটন। তিনি খেলেন দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ইনিংসের মিশ্রণ।
এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয়। ১৩৫ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসটি শেষ হয় ১১৪ রানে। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার কিছুক্ষণ পরেই তিনি আউট হন, তবে ততক্ষণে বাংলাদেশের স্কোর অনেকটাই এগিয়ে গেছে।লিটনের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন নাসুম আহমেদ ও খালেদ আহমেদ। বিশেষ করে নাসুমের সঙ্গে ৭ম উইকেটে ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি বাংলাদেশকে ২০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৭৮ রানে।
পাকিস্তানের সাবধানী শুরু
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই সতর্ক ব্যাটিং করে। ওপেনাররা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দিনের বাকি সময়টা কাটিয়ে দেন। শেষে ২১ রানে নিয়ে দিন শেষ করে তারা। বাংলাদেশের বোলাররা চেষ্টা করলেও প্রথম দিনে কোনো সাফল্য পাননি।প্রথম দিনের খেলা শেষে লিটন দাস অবশ্যই ম্যাচের নায়ক। তাঁর এই ইনিংস বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের বোলাররা কতটা চাপ তৈরি করতে পারেন পাকিস্তানের ওপর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ১ম দিন শেষে
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৭৮ (লিটন দাস ১১৪, নাসুম আহমেদ ৩৮; পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে নওয়াজ ৩/৫৮)
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২১/০ (৭ ওভার)।
