❐ জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রাতের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে রোগীর স্বজনদের মব হামলায় গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা দরজা-কাচ ভেঙে ওয়াশরুম থেকে টেনে বের করে ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে চিকিৎসককে আধমরা অবস্থায় ফেলে যায়। এ ঘটনায় তিনজন আনসার সদস্যও গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামলাকারীরা স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। আহত চিকিৎসক ডা. নাসির (বিসিএস ৪৮তম ব্যাচ) বর্তমানে সদর হাসপাতালে অ্যাটাচমেন্টে কর্মরত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে ৩-৪ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় সেবা প্রদানে চরম চাপ রয়েছে। রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে একজন মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (এমআই) রোগী বুকে ব্যথা নিয়ে ৬০/৪০ রক্তচাপসহ হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর পরিবার ঢাকায় নিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে ‘রিস্ক বন্ড’ দিয়ে ভর্তি করান।
রোগী কার্ডিয়োজেনিক শকে ছিলেন এবং তার অবস্থা দ্রুত অবনতি হয়। রোগী তৃতীয় তলার ওয়ার্ডে ভর্তি থাকায় স্বজনরা জরুরি বিভাগে খবর দিতে বিলম্ব করেন। ডা. নাসির রোগীর কাছে পৌঁছে তাকে মৃত অবস্থায় পান।
এরপর রোগীর স্বজনরা প্রায় ১৫০-২০০ জনের একটি বড় দল স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে জরুরি বিভাগে জড়ো হয়ে ডা. নাসিরের ওপর হামলা চালায়। তারা দরজার কাচ ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই চিকিৎসক ওয়াশরুমে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেটিও ভেঙে তাকে বের করে আনে। এ সময় ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। হামলাকারীরা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিকিৎসককে রক্ষা করতে গিয়ে হামলায় তিন আনসার সদস্যও আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসককে ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
চিকিৎসকদের সংগঠনগুলো এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেন, “কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা না থাকলে সেবা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অত্যধিক, জনবলের অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এ ধরনের ঘটনাকে উস্কে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ধরনের ‘মবরাজত্বে’ চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালগুলোতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত জনবল ও রোগী ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন না করলে এমন হামলা অব্যাহত থাকবে। ডা. নাসিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
পুলিশ এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


