বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সিটন ঢাকায় গ্রেফতার

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সিটন ঢাকায় গ্রেফতার
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদক
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের পরিচিত মুখ এবং গাবতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি রায় সিটনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গোপন অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে তাকে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশ জানায়, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই কৃষিবিদ অরুণ কান্তি রায় সিটন আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত দেড়টার দিকে বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে কবজায় নেয়। তিনি ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার সকালে সিটনকে শাজাহানপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। একটি নির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। অপরাধের ধরণ ও মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

অরুণ কান্তি রায় সিটন গাবতলীর সুখানপুকুর ইউনিয়নের তেলিহাটা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৫ আগস্টের সহিংসতা ও তার আগের বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের করা চারটি মামলায় তাকে প্রধান আসামিদের তালিকায় রাখা হয়েছে।

সিটনের গ্রেফতারের আগে গত ৮ মে গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বগুড়া জেলার শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের একের পর এক গ্রেফতারের ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

এদিকে অরুণ কান্তি রায় সিটনের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন বিবৃতিতে তারা দাবি করেছেন যে, সিটনের বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলো সম্পূর্ণ ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

শাজাহানপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মামলার তদন্তের স্বার্থে তারা কঠোর অবস্থান বজায় রাখছেন।

Visited 8 times, 1 visit(s) today