বগুড়ার প্রথম জুলাই শহীদের মা ১৬ মামলার আসামি হেরোইন ও বিভিন্ন মাদকসহ গ্রেপ্তার

বগুড়ার প্রথম জুলাই শহীদের মা ১৬ মামলার আসামি হেরোইন ও বিভিন্ন মাদকসহ গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

❐ জেলা প্রতিনিধি


বগুড়ায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৬টি মামলার আসামি শাপলা বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে ৫০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শাপলা বেগম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনে বগুড়ার প্রথম নিহত হিসেবে স্বীকৃত সিয়াম শুভর পালক মা।

১৭ই আগস্ট, সোমবার সকালে বগুড়া মহানগরীর চকসুত্রাপুর হাড্ডিপট্টি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাপলা বেগম চকসুত্রাপুর হাড্ডিপট্টি এলাকার মো. আশিকের স্ত্রী। ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই সন্ধ্যায় ঘুরতে বেরিয়ে সেউজগাড়ী আমতলা মোড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির গুলিতে নিহত হয় কিশোর সিয়াম শুভ।

পরে তাকে বগুড়ার বৈছার প্রথম নিহত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সিয়াম ছিলেন শাপলা বেগমের পালক সন্তান।

তবে জুলাই আন্দোলনে নিহতের মা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পরও শাপলা বেগম মাদক ব্যবসা থেকে সরে আসেননি বলে অভিযোগ পুলিশের। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন তিনি।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে সদর থানা পুলিশের একটি দল চকসুত্রাপুর হাড্ডিপট্টি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় শাপলা বেগমকে আটক করা হয়।

পরে তার কাছ থেকে ৫০ পিস টাপেন্টাডল ও ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগও ছিল

শাপলা বেগমের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। গত বছরের আগস্টে শাজাহানপুর থানার একটি চুরি মামলার আসামি রনিকে গ্রেপ্তার করতে চকসুত্রাপুর এলাকায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ জানায়, ওই অভিযানের সময় শাপলা বেগম ও তার স্বামী আশিকের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি লাঠি, রড ও বঁটি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ওই ঘটনায় শাপলা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, শাপলা বেগমের মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে স্থানীয়রা ও পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন। নতুন করে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Visited 7 times, 1 visit(s) today