বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদক
যশোরের উপশহর এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয় ও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে বসবাস করা মানুষগুলো হঠাৎ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপশহরের বাবলাতলা, গাবতলা, বি-ব্লক ও সি-ব্লক এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। উচ্ছেদের তালিকায় ছিল বি-ব্লক বাজার ও উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের দুটি কার্যালয়। এছাড়া আমতলা বস্তির প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও দুটি কারখানা ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আগামী সোমবার দ্বিতীয় দফায় আবারও অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযানের সময় ঘর হারানো মানুষের আহাজারিতে ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে। অনেকের দাবি, তারা বিগত ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। প্রশাসনের এই আচমকা সিদ্ধান্তে তারা ঘরের আসবাবপত্রটুকু সরানোরও পর্যাপ্ত সময় পাননি।
ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, অবৈধ বললেই কি ২০ থেকে ৩০ বছরের সাজানো ঘর এক নিমিষে ভেঙে দেওয়া যায়? আমরা কোথায় যাব, এই বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় থাকব? এটা প্রশাসনের চরম অমানবিকতা। অনেকের দাবি, বিগত সময় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে তারা সেখানে থাকার অনুমতি পেয়েছিলেন। এখন সেই প্রশাসনই তাদের ওপর বুলডোজার চালিয়ে দিল।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান জানান, প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, একাধিকবার মাইকিং করে সরে যেতে বলা হলেও দখলদাররা কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়েই সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে কঠোর হতে হয়েছে।
প্রশাসন একে ‘সরকারি জমি উদ্ধার’ বললেও স্থানীয় সাধারণ মানুষের চোখে এটি একটি ‘মানবিক বিপর্যয়’। ঘর হারানো পরিবারগুলো বলছে, প্রভাবশালীরা এতকাল জমি দখল করে থাকলেও শাস্তি পাচ্ছে সাধারণ গরিব মানুষ। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে কয়েকশ মানুষ এখন দিশাহারা। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে হাজারো মানুষকে উচ্ছেদ করা কতটা যৌক্তিক?
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো প্রভাবশালীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলো এখন সরকারের কাছে আশ্রয়ের জন্য আকুতি জানাচ্ছে।
