রাজিয়া বৃষ্টি ও জনকণ্ঠের ‘আলাদিনের প্রদীপ’ রহস্য

রাজিয়া বৃষ্টি ও জনকণ্ঠের ‘আলাদিনের প্রদীপ’ রহস্য
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
দৈনিক জনকণ্ঠ ও গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান শামীমা আতিকউল্লাহ খানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার চেক ডিসঅনার মামলার খবর এখন টক অফ দ্য কান্ট্রি। তবে এই মামলার নেপথ্যে উঠে এসেছে এক রোমাঞ্চকর ও বিস্ময়কর তথ্য। প্রশ্ন উঠেছে দেড় লাখ টাকা বেতনের একজন সাবেক কর্মচারী কীভাবে প্রতিষ্ঠানের মালিককে ১০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন?

গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের সাবেক বিজনেস হেড রাজিয়া রহমান বৃষ্টি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শামীমা আতিকউল্লাহ খানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার চেক ডিসঅনারের মামলা করেন। মামলার নথিতে দাবি করা হয়, চেয়ারম্যান শামীমা আতিকউল্লাহ খান বৃষ্টির কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন এবং তা পরিশোধের জন্য দেওয়া চেকটি ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এই মামলায় সম্প্রতি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজিয়া রহমান বৃষ্টি শামীমা আতিকউল্লাহ খানের ৫৫ বছরের পুরনো বান্ধবীর মেয়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বৃষ্টির পরিচালিত ‘প্রতিজ্ঞা ফাউন্ডেশন’ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এমনকি বাসার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ এবং বাজার করার টাকাও ছিল না তার কাছে।

সে সময় শামীমা আতিকউল্লাহ খানের কাছে ‘যাকাত’ ও আর্থিক সহায়তার জন্য হাত পাতেন বৃষ্টি। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে প্রথমে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে সম্মানজনক জীবিকার জন্য তাকে দেড় লাখ টাকা বেতনে ‘বিজনেস হেড’ হিসেবে নিয়োগ দেয় জনকণ্ঠ।

রাজিয়া বৃষ্টির আয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই বছরে মোট বেতন বাবদ পেয়েছেন প্রায় ২২ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানের অগোচরে কনসালট্যান্সি করে বড়জোর ৪৮ লাখ টাকা আয় করতে পারেন (যদি তা সত্য হয়)। কোনো খরচ না করলেও তার জমানো টাকার পরিমাণ ৭০ লাখের বেশি হওয়ার কথা নয়।

প্রশ্ন জাগে, যে ব্যক্তির বনানীর ফ্ল্যাট ব্যাংকে বন্ধক রাখা এবং যিনি দুই বছর আগে রিকশায় চলাফেরা করতেন, মাত্র দুই বছরে তার কাছে ১০ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তহবিল এলো কোত্থেকে? বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক কি এমন অলৌকিক মুনাফা দিচ্ছে?

রহস্যের জট আরও ঘনীভূত হয় বৃষ্টির দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে চারটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। কোটি টাকার কাবিন, বিদেশ থেকে আনা নামী ব্র্যান্ডের পোশাক ও গয়না সব মিলিয়ে এই রাজকীয় বিয়ের খরচের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগ উঠেছে, গ্লোব জনকণ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমেই রাতারাতি এই বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন এই দম্পতি।

গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে, ১০ কোটি টাকার মামলার ক্ষেত্রে বাদীর আয়ের উৎস কেন খতিয়ে দেখা হলো না? একজন সাধারণ কর্মচারী কোন যুক্তিতে মালিককে এত বড় অংকের ঋণ দেন?

জনমহলে এখন একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এটি কি বৃষ্টির কাছে থাকা কোনো ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’, নাকি পরিকল্পিত কোনো জালিয়াতি? আসল রহস্য উদ্ঘাটনে এখন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।

Visited 44 times, 1 visit(s) today