❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ অভিযান “অপারেশন এপিক ফিউরি” সম্পন্ন হয়েছে এবং যুদ্ধের আক্রমণাত্মক পর্যায় এখন শেষ।
হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে নির্ধারিত সকল লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
তবে রুবিও স্পষ্ট করে দেন যে ইরান এখন পর্যন্ত সেই পথ বেছে নেয়নি।
হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রুবিও বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী এই জাহাজগুলোকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ১,৫৫০টি বাণিজ্যিক জাহাজে ২২,৫০০ নাবিক আটকা পড়ে আছেন এবং ইতোমধ্যে অন্তত দশজন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই জাহাজগুলোতে রয়েছে জ্বালানি, সার এবং মানবিক সহায়তাসামগ্রী, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য অপরিহার্য।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র “অপারেশন ফ্রিডম” নামে একটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করছে বলে রুবিও জানান।
তিনি বলেন, মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী প্রণালীতে একটি সুরক্ষিত করিডোর তৈরি করছে, যার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অভিযান সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং কাউকে আক্রমণ না করলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো গুলি চালাবে না।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং প্রণালীতে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছে।
ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে তাদের অনুমোদিত পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে “কঠোর পদক্ষেপ” নেওয়া হবে।
এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে একটি মালবাহী জাহাজ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই সংঘাতের বাইরে নেই। দেশটি সোমবার ইরানের ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং আজও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যদিও ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে যে তারা আমিরাতে কোনো হামলা চালায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে বিশাল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতির কারণে যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
