নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর এক সপ্তাহের মাথায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ গাড়ির লাইন পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়েছে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা। বর্তমানে পাম্পগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে তেল মজুত রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে বিক্রি চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিরই ফল। দাম বাড়ানোর আগে কালোবাজারি চক্র বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল। দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই মজুত তেল বাজারে ছেড়ে দিয়ে তারা শত কোটি টাকা অবৈধ মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছে।
কীভাবে তৈরি হয়েছিল সংকট?
পুরো মার্চ-এপ্রিল মাস জুড়েই ইরানযুদ্ধের কারনে পেট্রোল ও ডিজেলের পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল। অনেক পাম্পে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার অজুহাতে সরকার রেশনিং ব্যাবস্থা চালু করা হয়। সাধারণ ভোক্তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েক লিটার তেল নিয়ে ফিরতে বাধ্য হন।
এই সংকটের মধ্যেই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
দাম বাড়ানোর পরপরই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে। লাইন উধাও, রেশনিং বন্ধ এবং পাম্পে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এই আকস্মিক পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট হয় যে, আগের সংকট ছিল কৃত্রিম। কালোবাজারিরা সস্তায় কেনা তেল মজুত করে রেখেছিল। দাম বাড়ার সুযোগে সেই তেল বেশি দামে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের লাভ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেওয়া একটি চক্রান্ত। সরকার দাম বাড়ানোর আগে বাজার তদারকি জোরদার না করায় কালোবাজারিরা সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে। ফলে সাধারণ ভোক্তারা দাম বৃদ্ধির আঘাতের পাশাপাশি আগে থেকেই সংকটে পড়েছেন, আর একটি চক্র রাতারাতি শত কোটি টাকার মুনাফা লুটেছে।
এ বিষয়ে সরকারি তদন্তের দাবি উঠেছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জ্বালানি তেলের মজুতদারি রোধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে।
বর্তমানে পাম্পে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও, কালোবাজারিদের এই সফল ‘অপারেশন’-এ সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থ আর ফেরত আসবে না। জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ এখন আরও জোরালো হয়েছে।
