ফ্লোরিডায় বৃষ্টির পলিথিনে মোড়া খণ্ডিত মরদেহ ভাসছিল পানিতে: দাঁতের ডিএনএ রেকর্ডে শনাক্ত

ফ্লোরিডায় বৃষ্টির পলিথিনে মোড়া খণ্ডিত মরদেহ ভাসছিল পানিতে: দাঁতের ডিএনএ রেকর্ডে শনাক্ত
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক


যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এর বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস ডিএনএ পরীক্ষা ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করে।


ঘটনার বিস্তারিত:

গত ১৬ এপ্রিল টাম্পা এলাকায় নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। লিমনের মরদেহ প্রথমে ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর একটি কালো আবর্জনার পলিথিনে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ সেদিনই লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে।

বৃষ্টির মরদেহের খোঁজ চলতে থাকে। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর, ২৬ এপ্রিল (রোববার), হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণে ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন কায়াকার (মাছ শিকারি) পানিতে ভাসতে থাকা একটি কালো পলিথিন দেখতে পান। তারা পুলিশকে খবর দিলে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর অবস্থায় খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধার করেন। মরদেহ এতটাই বিক্ষত ও পচনশীল ছিল যে প্রাথমিকভাবে লিঙ্গ বা পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তবে তদন্তকারীরা লক্ষ্য করেন যে, উদ্ধারকৃত খণ্ডিত অংশে জড়ানো পোশাক সিসিটিভি ফুটেজে শেষবার দেখা বৃষ্টির পোশাকের সঙ্গে মিলে যায়। লিমনের মরদেহ যেভাবে পলিথিনে বাঁধা ছিল, একইভাবে বৃষ্টির অংশও বাঁধা ছিল। আবুঘরবেহর গাড়িতে বৃষ্টির রক্তের দাগও পাওয়া যায়।

শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া:

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে জানান, ডিএনএ পরীক্ষা ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে উদ্ধারকৃত খণ্ডিত মরদেহ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। মরদেহের অবস্থার কারণে শনাক্তকরণে সময় লেগেছে।

আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুজনের প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, মরদেহ সরানো, প্রমাণ লোপাটসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে জামিন ছাড়া কারাগারে রাখা হয়েছে।

পরিবার ও দূতাবাসের উদ্যোগ:

বৃষ্টির ভাইসহ পরিবারকে পুলিশ সরাসরি ফোন করে খবর দিয়েছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস মিয়ামি কনস্যুলেটের মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। লিমনের মরদেহও ইতোমধ্যে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় ইউএসএফ ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীর স্মরণে ভিজিল ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করেছে। দুজনই বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এবং লিমন পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতিতে ডক্টরাল গবেষণা করছিলেন।

তদন্ত চলছে। পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত এবং আবাসিক এলাকায় ঘটেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর উদ্বেগ ও শোক বিরাজ করছে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today