❐ স্থানীয় সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের রাউজানে আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ফের রক্ত ঝরল। গত শুক্রবারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল দিবাগত রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই হামলার শিকার হন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে নাছির উদ্দীন বাড়ির কাছে অবস্থানকালে একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, মাটি ও পাহাড় কাটা এবং চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড। বিশেষ করে ‘জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে নাছিরের চরম বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে।
কয়েক মাস আগেও নাছিরকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ফিরলেও এবার শেষ রক্ষা হলো না।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক সহিংসতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে সহিংসতার গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত কয়েক মাসে উপজেলায় অন্তত দেড় ডজনেরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যার অধিকাংশেরই নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্ব।
নাছির উদ্দীন কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শমসের পাড়ার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশের তথ্যমতে, নাছিরের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে।
গত ২৪শে এপ্রিল (শুক্রবার) রাউজান পৌর এলাকায় কাউসার উর জামান বাবলু নামে এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় এই দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বাবলু হত্যায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও রাউজানের সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
