মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত, সারা দেশে সমন্বিত জঙ্গি হামলা

মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত, সারা দেশে সমন্বিত জঙ্গি হামলা
শেয়ার করুন

❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক


পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে রাজধানী বামাকোর কাছে একটি আত্মঘাতী ট্রাক বোমা হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। তাঁর বাসভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে যে হামলাকারীদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। একই সঙ্গে হামলায় কামারার পরিবারের কমপক্ষে তিনজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।

শনিবার দিনভর মালিজুড়ে একযোগে এই হামলাগুলো পরিচালিত হয়। সামরিক ঘাঁটির শহর কাতি থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের গাও ও কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলের সেভারে ও মোপতিতে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বছরের পর বছরের মধ্যে মালিতে সবচেয়ে বড় সমন্বিত জঙ্গি হামলা।

“একটি বিস্ফোরকবোঝাই যান আত্মঘাতী হামলাকারী দ্বারা পরিচালিত হয়ে মন্ত্রীর বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা করে।”

— মালি সরকারের মুখপাত্র ইসা ওসমান কুলিবালি

হামলায় কামারার বাসভবন ধসে পড়ে এবং পাশের একটি মসজিদ বিধ্বস্ত হয়, যেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন মুসল্লিও নিহত হন। জান্তাপ্রধান জেনারেল আসিমি গোইতার বাসভবনেও হামলা হলে তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কিদাল থেকে রুশ ভাড়াটে সেনা প্রত্যাহার

উত্তরের শহর কিদালে মালি সেনাবাহিনী ও রুশ ভাড়াটে সেনাদের সঙ্গে দুই দিনের সংঘর্ষের পর বিচ্ছিন্নতাবাদী আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) জানিয়েছে, রুশ সেনারা নিরাপদে সরে যাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। সংগঠনটির মুখপাত্র দাবি করেন, “কিদাল এখন মুক্ত।” তবে মালির সেনাবাহিনী এই দাবি নিশ্চিত করেনি।

কিদাল দীর্ঘদিন ধরে তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের অনানুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২৩ সালের শেষ দিকে মালি সেনাবাহিনী রুশ ভাড়াটে সৈন্যদের সহায়তায় শহরটি দখলে নেয়। এফএলএর একজন কমান্ডার জানান, “আমাদের মূল লক্ষ্য এখন গাও নিয়ন্ত্রণ করা, এরপর তিম্বুকতু।”

পটভূমি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

মালি বর্তমানে জেনারেল আসিমি গোইতার নেতৃত্বাধীন সামরিক জান্তার শাসনে রয়েছে, যিনি ২০২০ সালে ক্ষমতায় আসেন। দেশটি বছরের পর বছর ধরে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গি গোষ্ঠী এবং তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহিংসতায় বিপর্যস্ত। জান্তা ক্ষমতা নেওয়ার পর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী এবং ফরাসি বাহিনী মালি ত্যাগ করে এবং সরকার রুশ ভাড়াটে সেনা মোতায়েন করে।

এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোয়াসও হামলার নিন্দা করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ার জানিয়েছেন, তিনি পরিস্থিতি “গভীর উদ্বেগের সঙ্গে” পর্যবেক্ষণ করছেন।

সরকারি পদক্ষেপ

মালি সরকার সারা দেশে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। বামাকোসহ বিভিন্ন এলাকায় রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ আরোপ করা হয়েছে।

Visited 4 times, 1 visit(s) today