ফ্রান্স তার নাগরিকদের মালি থেকে “যত দ্রুত সম্ভব” সাময়িকভাবে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ আল-কায়েদা-সম্পৃক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) দেশজুড়ে জ্বালানির ট্যাংকার পরিবহন বন্ধ করে অবরোধ সৃষ্টি করেছে।
সেপ্টেম্বর থেকে গোষ্ঠীটি বিশেষ করে সেনেগাল ও আইভরি কোস্ট থেকে আসা জ্বালানি বহনকারী ট্রাকগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা মালির আমদানি বাণিজ্যের মূল রুট। এই অবরোধে রাজধানী বামাকোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল বন্ধ, বিদ্যুৎ ঘাটতি এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এমনকি বামাকোতেও, ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফরাসি নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যত দ্রুত সম্ভব মালি থেকে সাময়িক প্রস্থান পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে,” পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে যে সড়কপথে ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ জাতীয় মহাসড়কগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি রয়েছে।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাসকাল কনফাভরো জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তবে ফ্রান্সের দূতাবাস খোলা থাকবে এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও তাদের অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়।
এদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক নৌপরিবহন সংস্থা এমএসসি মালিতে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। জেএনআইএম-এর আরোপিত অবরোধে দেশটির অর্থনীতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারকে স্কুল বন্ধ করতে হয়েছে, কৃষিকাজ ব্যাহত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়েছে।
মালির সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা নাগরিকদের “অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমাতে” আহ্বান জানিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে সরকার জ্বালানি সরবরাহে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আলিউন টিন এই বক্তব্যকে “ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি” বলে অভিহিত করেছেন।
২০২০ ও ২০২১ সালের ধারাবাহিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মালি সামরিক সরকারের অধীনে রয়েছে। ফ্রান্সসহ পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটি এখন রুশ ভাড়াটে বাহিনীর ওপর নির্ভর করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালির সামরিক সরকার এখন কেবল রাজধানী বামাকোর নিরাপত্তা রক্ষাতেই মনোযোগ দিচ্ছে, অথচ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
জেএনআইএম-এর মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিমা প্রভাব দূর করে নিজেরা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজধানী বামাকো দখল করার মতো সামরিক বা প্রশাসনিক সক্ষমতা তাদের নেই, তবে বর্তমান সংকট দেশটির স্থিতিশীলতার জন্য অভূতপূর্ব হুমকি তৈরি করেছে।
