❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ পদকপ্রাপ্ত জীবিত সৈনিক বেন রবার্টস-স্মিথের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সিডনি বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪৭ বছর বয়সী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য। বুধবার জামিন শুনানির আগে তাকে রাতটি হেফাজতে থাকতে হবে।
রবার্টস-স্মিথ ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী ছেড়েছিলেন। তিনি দেশটির বিশেষ বাহিনী স্পেশাল এয়ার সার্ভিস (SAS)-এর সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালে একটি মানহানির মামলার রায়ে বলা হয়, তিনি নিরস্ত্র আফগানদের হত্যা করেছিলেন।
তবে ভিক্টোরিয়া ক্রসপ্রাপ্ত এই সাবেক সৈনিক সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো “ভয়াবহ” এবং “বিদ্বেষপূর্ণ”।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানায়, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে নিরস্ত্র বন্দিদের হত্যার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে একটি সরাসরি হত্যার অভিযোগ, একটি যৌথভাবে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এবং তিনটি হত্যায় সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগ রয়েছে যে ভুক্তভোগীদের কেউ সরাসরি রবার্টস-স্মিথ গুলি করে হত্যা করেছেন, অথবা তার নির্দেশে অন্য সৈন্যরা তা করেছে।
২০২০ সালে প্রকাশিত ব্রেরেটন রিপোর্টে আফগানিস্তানে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ৩৯ জনকে অবৈধভাবে হত্যার “বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ” পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে একাধিক সাবেক ও বর্তমান সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
এই তদন্ত পরিচালনার জন্য গঠিত বিশেষ সংস্থা অফিস অব দ্য স্পেশাল ইনভেস্টিগেটর (OSI) জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্ত অত্যন্ত জটিল। ঘটনাস্থলে সরাসরি যাওয়া, প্রমাণ সংগ্রহ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের পাওয়া কঠিন হওয়ায় তদন্তে নানা বাধা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় রাজনৈতিক মন্তব্য করা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রথম এসব অভিযোগ প্রকাশিত হবার পূর্বে রবার্টস-স্মিথকে জাতীয় বীর হিসেবে দেখা হতো। নিজের সুনাম রক্ষায় তিনি দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াই করেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত রায় দেয় যে, সম্ভাবনার ভিত্তিতে তিনি অন্তত চারটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
