❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ টানা ৩৩ দিনে গড়িয়েছে (২রা এপ্রিল পর্যন্ত)। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এই যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আমদানিনির্ভর দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ। ১৮ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পেট্রোলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন মোটরসাইকেলচালক ও পরিবহনকর্মীরা; অনেকেই আবার খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে এবং ব্যস্ত সড়কগুলোতেও যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে।
পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের কারণে এই রুট চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
এমন অবস্থায় সরকার জ্বালানি রেশনিংয়ের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। যদিও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িক কিছু শিথিলতা দেওয়া হয়েছিল, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে অপরিশোধিত তেলের মজুত খুবই সীমিত—যা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ সম্ভব। একইভাবে ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত কমছে; মার্চের শুরুতে ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের জন্য যথেষ্ট।
সংকট মোকাবিলায় নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
তবে সরকারিভাবে এখনো দাবি করা হচ্ছে, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই—যদিও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
