নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৩০ মার্চ ২০২৬: অন্তর্বর্তী সরকারের (প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে) ১৮ মাসের আমলে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে প্রায় ২০টি নিয়ে উল্লেখযোগ্য বিরোধ রয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির পর্যালোচনায় এসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হলেও বিরোধী দলের, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি অধিকাংশ (প্রায় ১১৩-১২০টি) নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে, যা সংশোধনসহ বা যেমন আছে তেমনই আইনে পরিণত হতে পারে।
সংসদের বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ সদস্যরা জানিয়েছেন, দুই দিনের তীব্র আলোচনার পর অধিকাংশ অধ্যাদেশে ‘কোনো বিরোধ নেই’। তবে ২০টি ইস্যুতে আরও ব্যাখ্যা ও আলোচনা প্রয়োজন। এর মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ, পুলিশ কমিশন, এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স প্রতিরোধ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা এবং সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয়সহ বিচারক নিয়োগের সিলেকশন কমিটি উল্লেখযোগ্য।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “২২টি ইস্যুর মধ্যে ১৪-১৫টিতে আমরা দ্বিমত পোষণ করেছি। সরকারি দল কিছু সংস্কার ফিরিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে চাইছে।” তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের মতো রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (২৯ মার্চ) জানান, বিশেষ কমিটির বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। কমিটির প্রতিবেদন ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপিত হবে। তিনি আশ্বাস দেন, “অধিকাংশ অধ্যাদেশই ধারণ করা হবে। কিছু যেমন আছে তেমনই, কিছু সংশোধন করে আইন করা হবে।” সংবিধান ও জুলাই সনদের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পটভূমি ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদিত না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সব ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন। পরে বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক অধ্যাদেশ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সংস্কার এজেন্ডা (জুলাই সনদ) ভিত্তিক। এর মধ্যে কিছু বিতর্কিত বলে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার মনে করে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতারা বলছেন, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন অধিকাংশই রাখা হবে।সম্ভাব্য ফলাফলঐকমত্যপূর্ণ অধ্যাদেশ: হুবহু বা সামান্য সংশোধন করে আইনে পরিণত।
বিতর্কিত ২০টি: নোট অব ডিসেন্টসহ উত্থাপন;
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত। কিছু (যেমন গণভোট অধ্যাদেশ) বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।
সময়সীমা: ১২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন না হলে বাতিল।
এই প্রক্রিয়া নতুন সরকারের সংস্কার অভিযান এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধী দলের অভিযোগ, কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকার বলছে, সবকিছু সংবিধান ও জনস্বার্থ অনুসারে হবে।
