❐ নিজস্ব প্রতিনিধি
জ্বালানি খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই এবার রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ডিপোতে হিসাবের বাইরে গোপনে তেল মজুদের ঘটনা ধরা পড়েছে।
বাগেরহাটের মোংলায় অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড-এর অয়েল ইনস্টলেশনে যৌথ অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ডিপোটি থেকে সাময়িকভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, এনএসআই ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান শুরুর সময় ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার (অপারেশন) আল আমিন খান কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুলনায় অবস্থান করছেন বলে জানান। পরে ডিপোর অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করেন।
অভিযানে গেজারম্যান ও নৌবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় ডিপোর ৩৩টি ট্যাংকে ডিজেলের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। পরবর্তীতে ২৮শে মার্চের স্টক রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তব মজুদ মিলিয়ে দেখা হলে তিনটি ট্যাংকে উল্লেখযোগ্য গরমিল ধরা পড়ে।
তথ্য অনুযায়ী, ১ নম্বর ট্যাংকে হিসাবের তুলনায় ৯৩২ লিটার বেশি ডিজেল পাওয়া যায়। ৯ নম্বর ট্যাংকে অতিরিক্ত পাওয়া যায় ১২ হাজার ৮১৮ লিটার। অন্যদিকে ১৪ নম্বর ট্যাংকে ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে তিনটি ট্যাংকে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেলের অতিরিক্ত মজুদ শনাক্ত করা হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে ডিপো ম্যানেজার আল আমিন খান আগেভাগেই ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি পলাতক।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে অতিরিক্ত তেল মজুদ করে তা কালোবাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, পাচারের উদ্দেশ্যে তেল সরিয়ে ফেলার প্রস্তুতির তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিতে ডিপোর একাধিক ট্যাংকে তেলের পরিমাণে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রোববার আজ ২৯শে মার্চ থেকে মোংলা ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক ম্যানেজার আল আমিন খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও জ্বালানি খাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। গত ১১ই মার্চ নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হয়, যা এ খাতে নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
