❐ নিজস্ব প্রতিনিধি
শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি অঞ্চলে বছরের পর বছর সুপেয় পানির সংকট অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে পুকুর, ঝর্ণা ও কুয়ার পানি ব্যবহার করছেন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, পাশাপাশি সেচের অভাবে কৃষিকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বাড়িতে টিউবওয়েল থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০০ থেকে ১২০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় সেগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ফলে দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট।
তবে যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তারা সাবমারসিবল পাম্প ব্যবহার করে কোনোভাবে পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন।
শ্রীবরদী উপজেলার মালাকোচা, টিলাপাড়া, বালিজুড়ি, বিলভরাট, অফিস পাড়া, খ্রিস্টানপাড়া, মেঘাদল, মাটিফাটা, হারিয়াকোনা, বাবেলাকোনা।
ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচা, পানবর, গুরুচরণ দুধনই, ছোট গজনী, বড় গজনী, গান্ধিগাঁও, বাকাকুড়া, হালচাটী, নওকুচি, ধানশাইল, নলকুড়া, গৌরীপুর, নালিতাবাড়ী উপজেলার গারোপাড়া, বাতকুচি, টিলাপাড়া, লক্ষ্মীকুড়া, পূর্ব সমেশ্চুড়া এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ১০০-১২০ ফুট নিচে নেমে যায়। ফলে ওইসব এলাকায় খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দেয় শুষ্ক মৌসুমে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি এলাকার নৃ গোষ্ঠীর গৃহিণী মালতি রাণী কোচ অভিযোগ করে বলেন, ‘শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা পানির সমস্যা সমাধান করে দিতে চায়, কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে কেউ আর খোঁজ রাখেন না। আমাদের ১৫ বাড়ির জন্য একটা টিউবওয়েল দিলেও চলে। তা ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়া যায় না।’
তিনি জানান, অন্তত কয়েকটি বাড়ির জন্য একটি টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।
একইভাবে শ্রীবরদীর মালাকোচা গ্রামের কৃষক ফজল করিম বলেন, ‘অনেকেই কয় সরকার পানির ব্যবস্থা কইরা দিব, কই কেউই তো আইজ পর্যন্ত আমগো খুঁজও নিল না। আমরা পুকুরের পঁচা পানি খাইয়া রোগ-বিরুগে ভুগতাছি, কেউতো দেখবারও আয়েন না। এইডা কোনো কথা হইলো।’
তিনি গভীর নলকূপ বা সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের দাবি জানান।
বেসরকারি সংস্থা এসএইচআরএসের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন। তবে এ সমস্যা সমাধানে এখনো দৃশ্যমান কোনো দীর্ঘমেয়াদি সরকারি উদ্যোগ নেই।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে সীমান্তবর্তী এসব এলাকার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়ে। এতে করে বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এ সংকট দেখা দেয়। বিষয়টি জরিপ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
