❐ জেলা প্রতিনিধি
ছাত্রদল, শিবির ও এনসিপির মব সন্ত্রাসীদের হাতে আটকের পর সেনা ও পুলিশ হেফাজতে দফায় দফায় নির্যাতনের পর ‘জুলাই মামলায়’ গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতা আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজকে। কিন্তু গুরুতর আহত মোয়াজ পাননি চিকিৎসা, তিলে তিলে তাকে ঠেলে দেওয়া হয় মৃত্যুর মুখে। কারাগারেও চালানো হয়েছে তার ওপর অকথ্য নির্যাতন। শেষ পর্যন্ত মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যেই মারা যান তিনি।
তার জানাজায় প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে সব স্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। গত বুধবার বাদ আসর শেরপুরের মীরগঞ্জ বারাকপাড়া ঈদগাহ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ জানতে পারেন তার ওপর হওয়া নির্মাম নির্যাতনের খবরটিও।
গণতন্ত্রের আড়ালে অমানবিকতা: ছাত্রলীগ নেতা কুদ্দুস মোয়াজের বিদায় ও কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন
জানাজায় জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বৃষ্টির মধ্যেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সময় মোয়াজের কর্মময় জীবন ও তার সংগঠনিক দক্ষতার কথা স্মরণ করেন এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীরা।
মোয়াজ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয়রা তাঁকে একজন উদ্যমী, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মোয়াজের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত সবাই মোয়াজের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এর আগে ৭ মাসেরও বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার ৭ দিনের মাথায় মারা যান ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ। নির্মম নির্যাতনে তার জীবনীশক্তি ফুরিয়ে এসেছিল। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৬ই মে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ফজু মিয়ার ছেলে। তিনি ছাত্রলীগের শেরপুর সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন।
ছাত্রলীগ নেতা মোয়াজ শেরপুর সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) সম্পন্ন করেছেন। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মামলায় চার্জশিটভুক্ত একজন আসামি ছিলেন।
জানা যায়, ২০২৪-এর ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর কলাবাগান এলাকা থেকে ছাত্রদল, শিবির ও এনসিপির সন্ত্রাসীরা তাকে আটক করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরে তাকে ধানমণ্ডি থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেনা এবং পুলিশ হেফাজতে তার ওপর এতটাই নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয় যে, তিনি ঠিকভাবে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
কারাগারেও তার ওপর চালানো হয় নির্মম নিপীড়ন। ৭ মাস কারান্তরীণ থাকার পর গত সপ্তাহে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ বাড়ি শেরপুরে ফিরেছিলেন আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ। গত মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় গিয়ে লালবাগের বাসায় ওঠেন। বুধবার ভোরে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

