❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট শহরে একটি গির্জার মেঝের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ১৭শ শতাব্দীর বিখ্যাত ফরাসি সৈনিক শার্ল দে বাত্স-কাস্তেলমোর দ’আরতানিয়ান-এর হতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
এই সৈনিকের জীবনকাহিনি থেকেই লেখক আলেক্সান্দ্র দুমা তার বিখ্যাত উপন্যাস থ্রি মাস্কেটিয়ার্স-এর প্রধান চরিত্র নির্মাণ করেছিলেন।
স্থানীয় ওয়োল্ডার এলাকায় অবস্থিত সেন্ট পিটার অ্যান্ড পল গির্জা-এ সংস্কারকাজ চলাকালে এই কঙ্কালটি আবিষ্কৃত হয়। গির্জার মেঝের একটি অংশ ধসে পড়ার পর মেরামতের সময় শ্রমিকরা প্রথমে এটি দেখতে পান।
পরে বিষয়টি জানানো হলে দীর্ঘদিন ধরে দ’আরতানিয়ানের সমাধিস্থল খুঁজে আসা প্রত্নতত্ত্ববিদদের ডাকা হয়।
গির্জার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিকন জানান, কঙ্কালটি গির্জার বেদির নিচে পবিত্র স্থানে সমাহিত ছিল, যা একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সমাধির ইঙ্গিত দেয়। কবরের ভেতর থেকে সেই সময়কার একটি ফরাসি মুদ্রা পাওয়া গেছে, যা সময়কাল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া কঙ্কালের বুকের কাছে একটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ঐতিহাসিক বিবরণে দ’আরতানিয়ানের মৃত্যুর সঙ্গে মিলে যায়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দ’আরতানিয়ান ছিলেন ফ্রান্সের রাজা লুই চতুর্দশ-এর অধীনে কর্মরত একজন দক্ষ সৈনিক ও গুপ্তচর। ১৬৭৩ সালে মাস্ট্রিখট অবরোধের সময় গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
তবে মৃত্যুর পর তাকে কোথায় সমাহিত করা হয়েছিল, তা এতদিন নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। গত ১৩ মার্চ সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা জার্মানির একটি গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা দ’আরতানিয়ানের পিতৃপরিবারের বংশধরদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখবেন, যাতে কঙ্কালটির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
এই আবিষ্কারকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেশ-বিদেশের গবেষকরা বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই সমাধিস্থল অনুসন্ধানকারী প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, বিষয়টি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অপেক্ষা করা জরুরি।
দ’আরতানিয়ানের খ্যাতি মূলত তার মৃত্যুর অনেক বছর পর ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৪৪ সালে প্রকাশিত উপন্যাসে তাকে সাহসী, বুদ্ধিমান ও দুঃসাহসিক এক তরুণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
এই চরিত্রকে কেন্দ্র করে অসংখ্য চলচ্চিত্র, নাটক ও টেলিভিশন সিরিজ নির্মিত হয়েছে।
এখন সবার দৃষ্টি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের দিকে। যদি এটি সত্যিই দ’আরতানিয়ানের কঙ্কাল হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে ইউরোপের ইতিহাস ও সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের বাস্তব প্রমাণ এবং প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের পুরোনো এক রহস্যের অবসান ঘটবে।
