বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন ব্যক্তির নামে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ–এর সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনের শুরুতে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন–এর সভাপতিত্বে অধিবেশনের প্রথম অংশ শুরু হয়। পরে স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কায়সার কামাল নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলে বিরতির মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। পরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে সংসদে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
সংসদের কার্যসূচিতে আগে থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশিষ্টজনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
স্পিকার সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান মাইক নেন।
তিনি বলেন, শোক প্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। সেগুলো বলার জন্য বিরোধী উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে অনুরোধ করেন।
পরে তাহেরকে মাইক দেন স্পিকার।
এসময় তাহের বলেন, শোক প্রস্তাব একটি দুঃখের বিষয়। প্রস্তাবনাটি একপেশে করে তৈরি করা হয়েছে। আশাকরি ভবিষ্যতে সংসদকে নিরপেক্ষ ও প্রানবন্ত করতে হলে আরও সচেতন হওয়া দরকার।
এসময় কতিপয় সংসদ সদস্য ও সমাজের গণমান্য ব্যক্তির নাম বাদ পড়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, দেলওয়ার হোসেন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সোবহান, শেখ আনছার আলী, রিয়াসাত আলী, আবদুল খালেক মণ্ডল, আছমা খাতুন, রোকেয়া আনছার, সুলতানা রাজিয়া, রাশেদা খাতুন, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, একে এম ইউসুফ, নাজির আহমেদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলী।
তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের জামায়াতে ইসলামী বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা হবে হেফাজতে ইসলামী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ২ হাজার শহীদ, শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব করেন।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলীয় উপনেতা যাঁদের নাম বলেছেন তাদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অধিবেশনে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুতে পৃথক শোক প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতিসহ বহু সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তি, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতরা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রকাশ করা হয়।
অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্যে বলেন, শোক প্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আরও কয়েকজনের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
স্পিকার জানান, যেসব নাম প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরে সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়।
