বুলবুলের কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

বুলবুলের কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু
শেয়ার করুন

সরকার পরিবর্তনের পর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ এখন খাদের কিনারায়। বিসিবি’র গত নির্বাচনে কথিত ‘অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার’ তদন্তে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) একটি শক্তিশালী স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিসিবি পুনর্গঠনের দাবি জোরালো হচ্ছিল। এর নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন সরকারে থাকা বিএনপিপন্থী ক্রীড়া সংগঠকরা। বিশেষ করে, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। গত এক সপ্তাহে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্লাব কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে, তার পেছনেও এই প্রভাবশালী মহলের সমন্বয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনএসসি’র গঠিত পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালেহ আকরাম সম্রাট।

কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে মূলত ২০২৫ সালের নির্বাচনে বিসিবি’র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলর মনোনীত হয়েছিল কি না এবং ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো জালিয়াতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

বোর্ডের ভেতরের খবর অনুযায়ী, এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটিকে বিদায় করে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের দিকে এগোবে সরকার। ভবিষ্যতে বিসিবি নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতেও বলা হয়েছে।

Visited 19 times, 1 visit(s) today